শাসক দল তৃণমূলের নানান নেতাদের নামে নানান দুর্নীতির অভিযোগ প্রায় সময়ই উঠে আসছে। তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে কম বিতর্ক নেই। তবে এসবের মাঝেই ব্যতিক্রম এক তৃণমূল নেতা। সংসার চালানোর জন্য টোটো চালাচ্ছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শ্যামল কুমার সাহা। গত একমাস ধরেই এই কাজ করছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, শ্যামলবাবু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। বালুরঘাট পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গৌড়ীয় মঠ এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন তিনি। এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল বোর্ড আসার পর পুরসভায় দৈনিক মজুরির কাজ পান শ্যামলবাবু। পুরসভার হয়ে ইলেকট্রিকের কাজ করতেন তিনি। কোনওভাবে টেনেটুনে চলে যাচ্ছিল সংসার।
কিন্তু হঠাৎই ২০২২ সালে দল ও দলের কর্মীরা তাঁকে তৃণমূলের প্রার্থী হতে জোরাজুরি শুরু করে। প্রার্থী হন তিনি আর ওই ওয়ার্ড থেকেই কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কাউন্সিলর হওয়ার পরেই পুরসভার দৈনিক মজুরিতে তিনি যে কাজটি করতেন, সেটা বন্ধ হয়ে যায়। কাউন্সিলরের সান্মানিক ভাতা তিনি পেতে শুরু করলেও, ওই টাকায় সংসার চালাতে পারছিলেন না শ্যামলবাবু। সেই কারণে শেষে টোটো চালানোই শুরু করেন তিনি।
ভোর হতেই টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন শ্যামলবাবু। তাঁর দৈনিক রোজগার ২০০-২৫০ টাকা মতো। মাঝে দলের কাজ সেরে ফের সন্ধ্যেয় বেরিয়ে পড়েন টোটো নিয়ে। গত একমাস ধরে টোটো চালিয়েই সম্মানের সঙ্গে জীবিকানির্বাহ করছেন শ্যামলবাবু। এখন সাংসারিক টান একটু কমেছে। সৎ পথে রোজগার করছেন তিনি। এর পাশাপাশি চলছে জনসেবামূলক কাজও।
এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানায়, “শ্যামলবাবুর মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই হল নতুন তৃণমূল। শ্যামলবাবু অবশ্য বলেন, একজন কাউন্সিলর হয়ে টোটো চালাতে বিন্দুমাত্র লজ্জা করে না তাঁর। বরং নিজেকে নিয়েই গর্বিত তিনি”।





