দিঘায় ঝাউবনের মধ্যে তোলাবাজি পুলিশের, ঘনিষ্ঠ অবস্থায় যুগলদের দেখলেই পাকড়াও, গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে পকেট ভরিয়ে চম্পট, সামনে এল আসল সত্যি!

হাবেভাবে এমনকি পোশাকেও পুলিশ। পরনে উর্দি সঙ্গে মাথায় টুপি। দিঘার সমুদ্রের কাছে ঝাউবনের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত এই পুলিশকে। কোনও যুগলকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় বসে থাকতে দেখলেই খপ করে ধরতেন তিনি। গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে নিজের পকেট ভরাতেন। এবার সামনে এল আসল সত্যি।

জানা গিয়েছে, এই ‘পুলিশে’র নাম পুলক দাস। কাঁথি থানার পাইলোচ্ছনপুর এলাকায় বাড়ি তাঁর। এবার সেই পুলিশের বিরুদ্ধেই উঠল নানান অভিযোগ। নানান পর্যটকরা থানায় অভিযোগ জানান ওই পুলিশের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমে জানা যায়, পুলক দাস নামের সেখানে কোনও পুলিশ কর্মীই নেই। নকল পুলিশ সেজে লোকজনের থেকে টাকা তুলছিল সেই যুবক।

অভিযোগ পাওয়ার পরই এই নকল পুলিশকে হাতেনাতে ধরতে উদ্যত হয় আসল পুলিশ। সমুদ্র সৈকতের নানা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। অবশেষে এক বৃহন্নলার সাহায্যে তাকে ধরার ফাঁদ পাতা হয়। ঝাউবনে বৃহন্নলাকে এক যুবকের সঙ্গে খোলামেলা অবস্থায় দেখে সে হাজির হয়ে টাকা দাবী করে ওই নকল পুলিশ। সেই সময় তাঁকে হাতেহাতে ধরে পুলিশ। বেশ কয়েকমাস জেল খাটে সে। ঘটনাটি গত নভেম্বরের।

কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, ‘স্বভাব যায় না মলে’। টাকার নেশা যে বড় নেশা। তা কী আর সহজে যায়। জেল থেকে বেরিয়ে সম্প্রতি ফের নিজের আগের পেশায় ফেরে সেই যুবক। একইভাবে পুলিশের পোশাক পরে তোলাবাজি শুরু করে সে। সেই একই অভিযোগে গত রবিবার ফের গ্রেফতার করা হয়েছে ওই যুবককে। সোমবার তাকে আদালতে তোলা হলে তাকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।,

এই ঘটনা প্রসঙ্গে দিঘা থানার ওসি অভিজিৎ পাত্র জানান, “কয়েক দিন ধরে ঝাউবনের ভেতরে ও নির্জন সৈকতে ওকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছিল। ফের কোনও বড় ধরনের অপরাধ সংগঠিত করার পরিকল্পনা করছিল। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ”।

আরও পড়ুনঃ অসুরক্ষিত রাতের কলকাতা! ফের শুটআউট রাতের শহরে, প্রোমোটারকে এলোপাথাড়ি ছুরি দিয়ে কোপাল দুষ্কৃতীরা, তদন্তে পুলিশ

পুলিশ জানাচ্ছে, বাজার থেকে পুলিশের পোশাক কিনে সেই পোশাক পরে দিঘার সৈকতে ঘুরে বেড়াত ওই যুবক। কোনও যুগলকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখলেই গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করত। কখনও আবার যৌন নির্যাতন করত বলেও অভিযোগ। সৈকতের পাশে পার্কিং করে রাখা গাড়ি থেকেও পর্যটকদের মোবাইল-ব্যাগ হাতিয়ে নিত সে, এমনটাও অভিযোগ।

RELATED Articles