আর জি কাণ্ডের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে গোটা রাজ্য তথা দেশ। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ-আন্দোলন। গতকাল, বুধবার ছিল দ্বিতীয় রাত দখলের কর্মসূচি। এদিন রাজ্যজুড়ে গোটা রাত চলে নানান কর্মসূচি, প্রতিবাদ। আর এই কর্মসূচিতেই এবার হামলা পুলিশের। আন্দোলনকারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা থেকে শুরু করে মারধর করে পুলিশ ভ্যানে তোলা, সবটাই করল পুলিশ।
আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে দিকে দিকে চলছে বিক্ষোভ। গতকাল, বুধবার রাত দখলের কর্মসূচি ছিল রাজ্যজুড়ে। এদিন বারাসাতের ডাকবাংলো মোড়েও চলছিল কর্মসূচি। সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই হামলা পুলিশের।
পুলিশের দাবী, জাতীয় সড়ক বন্ধ করে কেন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। রাস্তায় আঁকা স্লোগান নিয়েও চড়াও হয় পুলিশ। কেন সেই স্লোগান লেখা হয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধেই বা কেন স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, এই নিয়ে আন্দোলনকারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে পুলিশ আধিকারিকরা। জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় সেখান থেকে আন্দোলনকারীদের তুলে দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের তুলতে বল প্রয়োগ করে পুলিশ। তাদের টেনেহিঁচড়ে চ্যাংদোলা করে তোলা হয় পুলিশ ভ্যানে। বাদ পড়লেন না মহিলা ও শিশুরাও। মহিলা পুলিশ আধিকারিকরাও একাধিক মহিলা আন্দোলনকারীদের আটক করেন। এমনকি এক শিশুকেও ঠেলাঠেলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনে কেন পুলিশ এভাবে হামলা করল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের মারধর ও গালিগালাজ করার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সকলে। সকলের প্রশ্ন কেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করল পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, কোনও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বল প্রয়োগ করা যাবে না। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করেছে পুলিশ।
অনেকের মতেই, তৃণমূল দুষ্কৃতী ও পুলিশের মধ্যে কোনও ফারাক নেই। গতকাল এভাবেই কোচবিহারের মাথাভাঙাতে আন্দোলন কর্মসূচির উপর হামলা করেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। রাস্তায় আঁকা স্লোগান মুছে দেওয়া হয়। এক আন্দোলনকারীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। আর সেদিনই রাজ্যের অন্য প্রান্তে আন্দোলনকারীদের উপর চলল পুলিশের অত্যাচার।






