নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে কাটাপুকুর মর্গের সামনে ঝরল রক্ত, বামনেত্রী দীপ্সিতাকে হেনস্থা পুলিশের, সংবাদমাধ্যমকেও আক্রমণ, ভাঙা হল ক্যামেরা

জয়নগরে ন’বছরের নাবালিকার ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। দফায় দফায় এদিন উত্তপ্ত হল এলাকা। এদিন এলাকায় এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বাম-বিজেপি সমর্থকরা। ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, কনীনিকা ঘোষরা। যান দীপ্সিতা ধরও। এদিন পুলিশ হেনস্থা করে দীপ্সিতা ধরকে। আক্রমণ করা হয় সংবাদমাধ্যমকেও।

আর জি করের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এদিন বাম-বিজেপি উভয় সমর্থকরাই দাবী তোলেন যে নাবালিকার দেহ সংরক্ষণ করা হবে। তবে তা সত্ত্বেও কুলতলির মর্গে নাবালিকার দেহ নিয়ে গেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওই এলাকা। বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বাম-বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয় তাদের। এরই মধ্যে পুলিশের উদ্দেশে দীপ্সিতাকে বলতে শোনা যায়, “একবার বডি লোপাট করেছিস… শান্তি হয়নি? এবার তো দশ বছরের মেয়ে আবার”?

এরপরই দীপ্সিতাকে সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে সরায় পুলিশ। বাম-বিজেপি কর্মীদের মেরে মুখ থেকে রক্ত বের করে দেওয়া হয়। বাদ যায়নি সংবাদমাধ্যমও। আক্রমণ করা হয়েছে টিভি৯ বাংলাকেও। সাংবাদিককে মারতে  মারতে বের করে দেওয়া হয়। ভেঙে দেওয়া হয় ক্যামেরাও।

দীপ্সিতা এই ঘটনায় বলেন, ““আমি দেখলাম তো টিভি ৯ বাংলার ক্যামেরাও ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। এমনকী আপনাদের চিত্র সাংবাদিককেও মারছে। আমি ওদের প্রশ্ন করছি কী লুকোচ্ছেন আপনারা? ভিতরে এমন কী হচ্ছিল যেটা দেখতে পেলে পুলিশের অসুবিধা হচ্ছিল? তাহলে কি আর জি করের মতো কুলতলির বাচ্চা মেয়েটার বডি লোপাট করছে? কাকে বাঁচাতে”?

অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “মেয়েটির বাবা-মা যখন থানায়-থানায় ঘুরছিল তখন তো এফআইআর নেয়নি। অথচ আজ যারা ময়নাতদন্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এসেছে, তারা চাইছে ময়নাতদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হোক। মৃতদেহ সংরক্ষণের দাবি করছে। সেই সময় এভাবে পুলিশ মারছে? ধিক্কার জানাচ্ছি”।

এই প্রসঙ্গে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “সাধারণ মানুষ জানতে চায় আর কতদিন অরাজকতা চলবে? কেন অপরাধীদের পাশে প্রাশাসন? কেন বারবার অপরাধীরা পুলিশের প্রশ্রয় পাচ্ছে”?

আরও পড়ুনঃ ফিরল সেই চেনা ছবি! ধর থেকে আলাদা মাথা, বাংলাদেশে একের পর এক দুর্গামূর্তি ভাঙছে মুসলিমরা, ছবি দেখলে শিউড়ে উঠবেন

বলে রাখি, গতকাল, শুক্রবার রাতের দিকে জয়নগরের চতুর্থ শ্রেণীর এই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয় জলাভূমি থেকে। এর আগে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ থানায় জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে রাজি হয়নি বলে খবর। এরপর নাবালিকার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই পুলিশের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন স্থানীয়রা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ফাঁড়িতে। এরপর সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন বাম-বিজেপি কর্মীরা।    

RELATED Articles