কার্নিভালের রাতে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে, নিয়ে যাওয়া হল থানায়, ক্ষুব্ধ চিকিৎসক মহল

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ-আন্দোলন। তরুণী চিকিৎসকের ন্যায় বিচার-সহ ১০ দফা দাবীতে আমরণ অনশন করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে এবার পুলিশের বিরুদ্ধে উঠল চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ।  

আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে নানান অভিযোগ। এমনকি, চিকিৎসকদের আন্দোলনে পুলিশের বারবার বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এবার পুলিশের বিরুদ্ধে উঠল চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি। জানা গিয়েছে, কার্নিভালের রাতে পুলিশের দুর্ব্যবহারের শিকার হন পৌরসভার এক চিকিৎসক। সেই ঘটনায় পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, রাত দশটা থেকে ডিউটি ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁকে সিকিউরিটি পাস দেওয়া হয়নি। তিনি যখন নিরঞ্জন ঘাটে যান, তখন তাঁকে বাধা দেয় পুলিশ। তিনি জানান যে তিনি অন ডিউটি চিকিৎসক। অভিযোগ, তারপরও তাঁর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। এমনকি, ওই চিকিৎসককে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ। দু’ঘণ্টা পর পিআর বন্ডে ছাড়া পান তিনি।   

আক্রান্ত ওই চিকিৎসকের নাম হীরকব্রত সরকার। তিনি বলেন, “হঠাৎ করে ১০-১২ জন আমাকে মারতে শুরু করেন। আমার পিঠে খিমচে দেয়। তারপর এক জন পুলিশ আমাকে ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে সিনিয়রের কাছে নিয়ে যায়। তারপর আমাকে ক্রিমিন্যালের মতো আমার বাইকেই বসিয়ে মারধর করে। পরে আমাকে দিয়ে পি আর বন্ডে ছাড়ে”।

আরও পড়ুনঃ হবু বরের সঙ্গে বেরিয়ে আর ফেরেনি! কৃষ্ণনগরে ছাত্রীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়, গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ পরিবারের 

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী। তিনি বলেন, “সকালে মালদহেও এরকম দুটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে চিকিৎসকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধেই। এখানে পুলিশ, যার রক্ষা করার কথা, তার বিরুদ্ধেই মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ডাক্তার, চিকিৎসক কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে”। এই ঘটনায় পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি এখনও পর্যন্ত।

RELATED Articles