তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে তৃণমূল বিধায়কের পাশে বসে আয়েশ করে নৈশভোজ পুলিশ কর্তার, ভাইরাল ছবিকে ঘিরে বিতর্ক, উঠল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে বসে রাতের খাওয়াদাওয়া করছেন তৃণমূল বিধায়ক। আর তার পাশেই পা ছড়িয়ে বসে খাচ্ছেন জয়নগর থানার আইসি রাকেশ চট্টোপাধ্যায়। এমনই ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেই ছবিকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা-সহ নানান বিরোধী নেতারা এই ছবিকে কেন্দ্র করে আক্রমণ করেছেন শাসক দল ও প্রশাসনকে।

সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতে ছিল ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেন বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক বিভাস সর্দার। সেদিন রাতে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতেই রাতের খাওয়াদাওয়া সারেন তিনি। সেখানেই ওই তৃণমূল বিধায়কের পাশে মেঝেতে বসে খাওয়াদাওয়া করতে দেখা গিয়েছে জয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাকেশ চট্টোপাধ্যায়কে।

সেই খাওয়াদাওয়ার ছবিই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তৃণমূল কর্মীরাই। তবে এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭। আর ওই ছবিগুলি নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণের ঝাঁঝ শানালেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তিনি। দল আর প্রশাসন কি এক? এমন প্রশ্নও উঠছে সেই।

টুইটারে একটি ফেসবুক লিঙ্ক শেয়ার করে অনুপম হাজরা লেখেন, “ইউনিফর্ম পড়া পুলিশকে দিয়ে কিভাবে সংগঠন করাতে হয় তা তৃণমূলকে দেখে শেখা উচিত! খুব যদি ভুল না করি, পুলিশের উর্দিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত জয়নগর থানার আইসি”। তবে এই ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই তৃণমূলের তরফে পোস্ট করা অনেক ছবিই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। 

https://twitter.com/tweetanupam/status/1638459498305314819?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1638459498305314819%7Ctwgr%5E2c2736720f0447ac4295432d27e116d7e4b22608%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Ftv9bangla.com%2Fwest-bengal%2Fdakshin-dinajpur%2Fpolice-officer-and-tmc-mla-at-dinner-at-trinamool-workers-house-in-baruipur-sparks-controversy-au62-774297.html

যদিও তৃণমূল বিধায়ক বিভাস সর্দারের দাবী, এটা ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচি ছিল না। বিরোধীদের তোপ দেগে তিনি বলেন, “বিরোধীরা একটু ভাল করে খোঁজ নিয়ে দেখুক ওটা দিদির সুরক্ষা কবচের অনুষ্ঠান ছিল না। ওটা এলাকার মাদ্রাসার একটা অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠান শেষেই এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে আমাদের আমন্ত্রণ ছিল। সেখানে একসঙ্গে আমরা খাওয়া-দাওয়া করি। অসত্য খবর পরিবেশন করাটা ঠিক নয়। বিরোধীরা আসলে মিডিয়াতে আছে। ওখানেই ওদের দেখা যায়। মানুষের কাছে, জনতার কাছে মমতা আছে। এটা সর্বত্রই সত্য। মানুষের হৃদয়ে রয়েছেন মমতা”।

তবে এরপরও কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি বিরোধীরা। এলাকার সিপিএম নেতা অপূর্ব প্রামাণিক বলেন, “প্রশাসন আর তৃণমূল আলাদা বলে কিছু নেই। সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। এটা তারই প্রতিচ্ছবি। আর দিদর দূতে বেরোলেই তো তৃণমূলের বড় বড় মুখেরা মার খাচ্ছে। তাই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বেরোচ্ছে”।

আক্রমণ শানিয়েছেন এলাকার বিজেপি নেতারাও। বিজেপি নেতা সুনীপ দাস বলেন, “এটা অবাক করা কাণ্ড। দলীয় কর্মসূচিতে বিধায়কের পাশে বসে পা ছড়িয়ে খাচ্ছেন আইসি। এটা পশ্চিমবঙ্গেই সম্ভব। পুলিশকে তো পার্টির অংশ করে ফেলেছে তৃণমূল”।

RELATED Articles