করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে লাগু মহামারী আইন। চলছে ২১ দিনের লকডাউন। রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে লকডাউনকে মেনে চলার জন্য। অপ্রয়োজন কেউ বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন কিনা তা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশের উপর। কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধেই রাজ্যবাসী ‘বাড়াবাড়ি’র অভিযোগ করেছেন।
স্যোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিওয় দেখা গেছে পুলিশ লক ডাউন পালনের নামে কোথাও মানুষকে লাঠিপেটা করছে, কোথাও সবজির ঝুড়িতে লাথি মারছে। এই ‘বাড়াবাড়ি’র অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ১২জন পুলিশকর্মীকে ‘ক্লোজ’ করেছে রাজ্য পুলিশ। চারজনের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্তও।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এরকম আরও একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে, যেখানে লক ডাউন পালন করানোর নামে পুলিশ ‘অমানবিক’ আচরণ করেছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদের বিরুদ্ধে এমন বিতর্কিত অভিযোগ এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সূত্রের খবর, মোট ১২ জন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে এবং চারজনের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। এই ১২ জনের মধ্যে একজন আইসি রয়েছেন, রয়েছেন পাঁচজন সাব-ইন্সপেক্টর, বাকি ছ’জন মহিলা ও পুরুষ কনস্টেবল। হেনস্থার অভিযোগ এসেছে বেশকিছু সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধেও। রাজ্যের এক পুলিশকর্তা এবিষয়ে বলেন, “যারা ভুল করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ক্লোজ করার অর্থ তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডিউটি থেকে বসিয়ে দেওয়া। এই পর্বে তাঁকে অফিসে কোন কাজ দেওয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শুরু হবে। তদন্তে দোষ পাওয়া গেলে পরবর্তীতে সাসপেন্ড করা হতে পারে। যে চারজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে তাঁদেরও ডিউটি দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে প্রশাসন সূত্রে।
বস্তুত এই ১২ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যের সর্ব স্তরের পুলিশকর্মীদের বার্তা দিল নবান্ন। স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল কোথাও শাসনের নামে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ এলে তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।






