স্নায়ুযুদ্ধে জয় জুনিয়র চিকিৎসকদের। একটানা ২২ ঘণ্টা রাস্তা দখলের পর পিছু হটতে বাধ্য হল পুলিশ। সরে যাচ্ছে ব্যারিকেড। লালবাজারের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবীতে গতকাল, সোমবার লালবাজার অভিযান করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তবে তাদের ফিয়ার্স লেনে কাতকে দেওয়া হয়। তুলে দেওয়া হয় ৯ ফুট উঁচু লোহার দেওয়াল। ফলে রাস্তায় বসেই প্রতিবাদ জানান তারা। কাটে গোটা সন্ধ্যা, গোটা রাত, তারপর আজকের গোটা সকাল। মুখে চলতে থাকে স্লোগান উই ওয়ান্ট জাস্টিস।
গতকাল থেকে অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার অনেকবার চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন বটে তবে তাদের একটাই দাবী ছিল পুলিশ কমিশনারকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে হবে আর না হলে লালবাজার থেকে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার দাবীও তোলেন তারা।
এরপর আজ ফের কথা হয় অ্যাডিশনাল সিপি-র সঙ্গে। দু’পক্ষের আলোচনায় পিছু হটতে বাধ্য হয় পুলিশ। ২২ ঘণ্টা পর ২২ জন চিকিৎসককে লালবাজারে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতি দেওয়ার পরই সরানো হয় লোহার ব্যারিকেড। শান্তিপূর্ণভাবেই মিছিল এগিয়ে যান চিকিৎসকরা। বেন্টিঙ্ক স্ট্রীট পর্যন্ত যাবে এই মিছিল। এরপর ২২ জন প্রতিনিধি যাবেন লালবাজারে। পুলিশ কমিশনারের কাছে তাঁরই পদত্যাগের দাবী ডেপুটেশন জমা দেবেন তারা, এমনটাই খবর।
আন্দোলনকারী এক জুনিয়র চিকিৎসক বলেন, “আমরা পুলিশকে অনুরোধ করেছি সামনের যে ব্যারিকেড আছে তা তুলে দিন। তারপর যাব। আমরা এও বলেছি, এরপর যেন কোনও ব্যারিকেড যেন না থাকে। আমরা মানব বন্ধনী তৈরি করছি। আমরা কথা দিয়েছি এই মিছিল থেকে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হবে না”।
জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, “আমাদের দাবী যে কতটা ন্যায্য ছিল আজ ব্যারিকেড খোলা তারই প্রমাণ। ওঁদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে দেখে ভাল লাগছে। কাল থেকে যেভাবে পুলিশ আমাদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের মতো আচরণ করল, এত বড় বড় ব্যারিকেড লাগাল, আজ যখন সেটা খুলছে প্রমাণ হচ্ছে আমাদের কালকের দাবি কতটা ন্যায্য ছিল”।






