পাতানো দিদির বাড়িতে জন্মদিনের পার্টিতে ম’দের আসর, সেখান থেকেই দেড় লক্ষ টাকায় বিক্রি ৬ মাসের শিশু, খুদেকে উদ্ধার পুলিশের

পাতানো দিদির বাড়িতে ছিল জন্মদিনের পার্টি। সেখানেই ৬ মাসের শিশুকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক দম্পতি। অভিযোগ, সেখান থেকেই দেড় লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়ে যায় শিশুটি। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে চার ঘণ্টার মধ্যে খুদেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এই ঘটনায়। ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগরে।

পুলিশ সূত্রে খবর, চুঁচুড়া বড় বাজার বিবির বাগান এলাকায় থাকেন মামন ওঁরাওয়ের এক পাতানো দিদি পিঙ্কি গুপ্তা। গতকাল, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর বাড়িতেই জন্মদিনের পার্টিতে ছ’মাসের ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন মা বাবা। ম’দ ও মা’দ’কের পার্টি বসে সেখানে।

শিশুটির মায়ের বক্তব্য, খাওয়া দাওয়ার পর বাড়ি চলে যান শিশুর বাবা। পিঙ্কির বাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মামন। কিন্তু বিকেলে ঘুম ভাঙতেই তিনি দেখেন, তাঁর পুত্র সন্তান তাঁর পাশে নেই। পিঙ্কিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বাবা এসে বাড়ি নিয়ে গিয়েছে শিশুকে।

পিঙ্কির কথায় সন্দেহ হয় শিশুটির মায়ের। ফোন করে খোঁজ নেন তিনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই তড়িঘড়ি তদন্তে শুরু করে পুলিশ। চুঁচুড়া কপিডাঙায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন শিশুর মা বাবা। সেখান থেকে শিশুর বাবা ভীম ওঁরাওকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। জোরঘাট এলাকার ফুটেজ খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এক মহিলা স্কুটিতে করে নিয়ে যাচ্ছে শিশুটিকে। এরপরই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, মোটা টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করা দেওয়া হয়েছিল। পিঙ্কিও সেই টাকার ভাগ পেয়েছিল। এরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পিঙ্কি গুপ্তা-সহ  এরমেন দেবনাথ, সঙ্গীতা বিশ্বাস, বেবি অধিকারী ও কাকলি চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

এই ঘটনা প্রসঙ্গে চন্দননগর পুলিশের ডিসিপি বিদিত রাজ বুন্দেশ জানান, “শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ পাওয়ার পরেই চুঁচুড়া থানার পুলিশ একটি দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। অপহৃত শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই এই অপরাধ সংগঠিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দেড় লক্ষ টাকায় শিশু কেনা-বেচা হয়েছে বলে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে। এই চক্রে আর কারা যুক্ত, তা দেখা হচ্ছে। যে শিশুটিকে কিনেছিল তার এক সন্তান আছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে”।

RELATED Articles