৮ বছর ধরে অন্যের ফ্ল্যাট জবরদখল করে ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর, পুলিশ এসে ফাঁকা করাল

অন্যের ফ্ল্যাট ৮ বছর ধরে জবরদখল করে ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর জয় পেলেন ফ্ল্যাটের মালিক।  আদালতের নির্দেশে ওই ফ্ল্যাট থেকে তৃণমূল কাউন্সিলরকে উৎখাত করল পুলিশ। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের দাবী, প্রোমোটার একই ফ্ল্যাটের জন্য দু’জনের থেকে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রোমোটারের মৃত্যু হওয়ায় তিনি ফ্ল্যাট নিজের নামে রেজিস্ট্রি করাতে পারেন নি।

কী অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে?

জানা গিয়েছে, কোন্নগর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক বহুতলের একতলার একটি ফ্ল্যাট দখল করে ছিলেন কোন্নগর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অসিত চক্রবর্তী। কিন্তু উত্তরপাড়ার সেই ফ্ল্যাটটি আবার ২০০৬ সালে কোন্নগরের বাসিন্দা সুপ্রিয় চৌধুরী প্রোমোটারের কাছ থেকে কিনেছিলেন। ফ্ল্যাটের সমস্ত টাকাও মিটিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরও নানান কারণ দেখিয়ে তাঁকে ফ্ল্যাট দিচ্ছিলেন না প্রোমোটার। এরপর অসুস্থতার কারণে প্রোমোটারের মৃত্যু হয়। ২০১৪ সালে সুপ্রিয়বাবু জানতে পারেন তাঁর ওই ফ্ল্যাটটি তৃণমূল কাউন্সিলর অসিত চক্রবর্তী দখল করেছেন। এরপরই জেলা ক্রেতা আদালতের দারস্থ হন সুপ্রিয়বাবু। দীর্ঘ আটবছরের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে জয় পেলেন সুপ্রিয়বাবু।

কী নির্দেশ দিল আদালত?

আদালতের পর্যবেক্ষণ, যে ফ্ল্যাটটি তৃণমূল কাউন্সিলর দখল করে রয়েছে, সেটির আসল মালিক সুপ্রিয় চৌধুরীই। ওই ফ্ল্যাটটি অবিলম্বে খালি করে সুপ্রিয়বাবুকে দিয়ে দিতে হবে কাউন্সিলরকে। আদালতের নির্দেশের পরই ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরকে উৎখাত করে পুলিশ। সুপ্রিয়বাবু পুলিশের ভূমিকায় খুশি। তিনি বলেন, “পুলিশকে যে এতটা পাশে পাওয়া যাবে ভাবা যায়নি। পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে”।

এই বিষয়ে কী বক্তব্য তৃণমূল কাউন্সিলরের?

অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর অসিত চক্রবর্তীর কথায়, “এই ফ্ল্যাটের জন্য টাকা দিয়েছিলেন প্রোমোটারকে। আমার কাছে সব বৈধ কাগজ আছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করার আগেই প্রোমোটারের মৃত্যু হয়। তাই প্রোমোটার টাকা নিয়েও রেজিস্ট্রি করে দিতে পারেননি। এতে তাঁর কোনও দোষ নেই। আসল দোষ প্রোমোটারের। তিনিই টাকা নিয়ে দুজনের কাছেই একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছিলেন। আর যেহেতু রেজিস্ট্রি সুপ্রিয়বাবুর নামে ছিল তাই আইনি লড়াইয়ে তাঁর জয় হয়েছে”।

তিনি এও বলেন, তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে নিজেই তিনি ফ্ল্যাটটি খালি করে দেবেন। এভাবে পুলিশের এসে ফ্ল্যাট ফাঁকা করাটা ঠিক হল না। তাঁর কথায়, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। কোনও ভুল কাজ করেন নি তিনি।

RELATED Articles