অর্জুনের দলে ফেরায় মোটেই খুশি নয় আদি বিজেপি মণ্ডল, ‘ভাগ অর্জুন ভাগ’ নামে ফের পোস্টার ব্যারাকপুরে

ঘটেছে ২০১৯ সালের পুনরাবৃত্তিই। তৃণমূলে টিকিট না পেয়ে ফের বিজেপিতেই ফিরেছেন ব্যারাকপুরের বাহুবলী সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি বিজেপিতে থাকাকালীনই দলের কর্মী-সমর্থকদের তাঁর উপর চাপা ক্ষোভ ছিলই। ফলে অর্জুনের বিজেপিতে ওয়াপসি একেবারেই ভালো চোখে নিলেন না তারা। ফের ব্যারাকপুরে অর্জুনের বিরোধিতায় দেখা গেল পোস্টার।

এই ঘটনায় বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ তুলেছে শাসক দল। কিন্তু বিজেপির তরফে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যদিও সূত্রের খবর, ব্যারাকপুর লোকসভায় বিজেপি একাধিক মণ্ডল রয়েছে। আর সেই সমস্ত মণ্ডলই অর্জুন সিংয়ের বিরোধিতায় অভিযোগ জানিয়েছিল জেলা থেকে শুরু করে রাজ্য নেতৃত্বকে।

তাদের দাবী ছিল, অর্জুন সিং তৃণমূলের থেকে ভোটের টিকিট পায়নি বলেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি দলকে ভালোবাসে নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দলবদল করছেন। অনেকের মতেই, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব অর্জুন সিংয়ের বিরোধিতা করাতেই তিনি দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন। আর অর্জুন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই ব্যারাকপুর স্টেশন জুড়ে দেখা মিলল ‘ভাগ অর্জুন ভাগ’ পোস্টারের।

এর আগে অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠরা বারবার দাবী করেছে যে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুরে বিজেপির টিকিটে জয়ী হওয়ার কৃতিত্ব অর্জুনেরই। আর সেই কারণেই ফের তাঁকে দলে ফিরিয়েছে বিজেপি। এক ঘনিষ্ঠের কথায়। ব্যারাকপুরে বিজেপির মুখ কেউ নেই। ২০১৯ সালেও অর্জুন সিং ওই কেন্দ্রে না দাঁড়ালে বিজেপি জয় পেত না।

যদিও এই বিষয়ে বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুণী পাত্র বলেছেন, “ব্যক্তি ক্যারিশ্মায় নয়, মানুষ ভোট দেবে মোদিজীর উন্নয়ন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য। ২০১৯ সালে এই কারণেই বারাকপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এই কারণেই জিতবে”।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিক বলেন, “অন্য রাজনৈতিক দলের সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে আমি বিশ্বাস করি, যারা দীর্ঘসময় ধরে একটা পার্টি করে, সেই লোকগুলোকেই দলের সম্মান জানানো উচিত। তাঁদেরই দায়িত্ব দেওয়া উচিত”।

RELATED Articles