২১ শের যুদ্ধ জিততে শেষে বামেদের ঘাসফুলে আনতে মরিয়া ‘পিকে’বাহিনী। কিন্তু হতাশাই সঙ্গী তাঁদের!

বিজেপির কাছে গত লোকসভা নির্বাচনে বেশ কিছু আসন হাতছাড়া হয় শাসক দলের। এর পরই ঘাসফুল শিবিরকে চাঙ্গা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে প্রবেশ করেন রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর বা পিকে।

বঙ্গ রাজনীতিতে পিকের আগমনের পর থেকেই একের পর এক নিত্য নতুন কর্মসূচির আমদানি হয়েছে শাসক শিবিরে। যেমন ‘দিদিকে বলো’, ‘বাংলার গর্ব মমতা’–সব‌ই পিকের মস্তিষ্ক প্রসূত। এক‌ই সঙ্গে দল ভারী করার কাজ‌ও সমান তালে করে চলেছে পিকের বাহিনী। টিম পিকের সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে উত্তরবঙ্গের ওপর। সেখানকার বাম নেতাদের দলে আনার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোরের নিজস্ব স্ট্রাটেজিস্টরা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হতাশাকে আঁকড়েই ফিরতে হচ্ছে তাঁদের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন বন প্রতিমন্ত্রী বনমালী রায়কে ফোন করেছিলেন পিকে–র দলের এক প্রতিনিধি। প্রাক্তন ওই মন্ত্রী জানান, ‘ওঁরা দেখা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি পরিষ্কার না বলে দিয়েছি।’ অন্যদিকে জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ মহেন্দ্র রায়ের বাড়িতে পিকে–র দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়ও। তাঁদের প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছেন প্রাক্তন ওই বাম সাংসদ।

সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোক্তাল হোসেন‌ও এক‌ই কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি পিকে–র দলের তরফ থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পান। সেই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি পিকে–র দলের লোকজনকে ৭ বছর পুরনো ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেন। সে সময় ক্ষমতার বলে জলপাইগুড়ি লাগোয়া ভাঙামালি এলাকায় সিপিএমের পার্টি অফিস পুড়িয়ে দেয় তৃণমূল কর্মীরা। আবার সেই ক্ষততে প্রলেপ লাগিয়ে পিকে–র দলের প্রতিনিধি জানান, ওই ঘটনার জন্য প্রয়োজনে তৃণমূল নেতা বা রাজ্য প্রতিনিধিরা এসে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবেন। এ সব শুনেও মোক্তাল হোসেন তাঁদের মুখের ওপর না বলে দিয়েছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment