ত্রিপুরা, গোয়ার পর এবার তৃণমূলের লক্ষ্য কর্ণাটকে ঘাঁটি গড়া, গুরু দায়িত্বে প্রশান্ত কিশোর

ত্রিপুরা, গোয়াতে মাটি শক্ত করার পর এবার তৃণমূলের লক্ষ্য কর্ণাটক। আর কর্ণাটকের মাটিতে ঘাসফুল ঝাণ্ডা পোঁতার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরকে। আর সেই কাজ নাকি তিনি ইতিমধ্যেই শুরু করে ফেলেছেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, কর্ণাটকের লিঙ্গায়ত জনগোষ্ঠীর বর্ষীয়ান কংগ্রেস ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নাকি দেখা করার পরিকল্পনা করছেন প্রশান্ত কিশোর। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি এম বি পাটিল। আরও চমকে দেওয়ার মতো নামও রয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা এবং তাঁর ছেলে তথা কর্নাটক বিজেপির সহসভাপতি বি ওয়াই বিজয়েন্দ্রের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছেন প্রশান্ত কিশোর।

তবে প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতির তরফে এই খবর পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। টুইটারে তিনি লেখেন, “এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মনগড়া। এই খবরের কোনও সত্যতা নেই”।

বলে রাখি, মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা ও আরও নানান ছোটো ছোটো রাজ্যে কংগ্রেস নেতারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আর এসবের নেপথ্যে যে প্রশান্ত কিশোর রয়েছেন, তাও জানা যাচ্ছে।

তবে এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ তৃণমূল। অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোরও জানিয়েছেন যে তিনি বেঙ্গালুরুতে নেই, কলকাতাতেই রয়েছেন। এদিকে কংগ্রেস নেতাদের মতেও, পিকে এখন ত্রিপুরার নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত। তিনি বেঙ্গালুরুতে নেই।

তবে কংগ্রেসের অন্য এক সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের এক পাঁচ তারা হোটেলে লিঙ্গায়ত গোষ্ঠীর নেতাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতার সঙ্গে দেখাও করেছেন তিনি। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, বেঙ্গালুরুতে কোথাও তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় তৈরির জন্য জায়গাও নাকি খোঁজ করেছেন প্রশান্ত কিশোর।

বঙ্গ রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোরের নাম এখন বেশ চর্চায় রয়েছে। তৃণমূলকে সর্বভারতীয় স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম, তা বলাই বাহুল্য। গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সদ্য নেতা লুইজিনহো ফালেইরো বলেন, “আপনারা হয়তো বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু আগে কখনই আমার সঙ্গে ওঁদের দেখা হয়নি। কিন্তু ওঁরা দারুণ। শুধুমাত্র তৃণমূলের নেতৃত্ব হিসেবে ওঁরা ভাল এমনটা নয়। বরং জাতীয় স্তরেও জন্যও ওঁরা ভাল নেতা। তবে ওঁদের সঙ্গে দেখা করিনি। আমি টিম আইপ্যাক এবং প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। পাকা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই মুখোমুখি দেখা হয়েছিল”।

RELATED Articles