দীর্ঘ দাবদাহের পর অবশেষে বৃষ্টির দেখা মিলেছে। খানিকটা স্বস্তি পেয়েছে রাজ্যবাসী। কিন্তু এই বৃষ্টির জেরেই যে আরও এক অশান্তি নেমে আসবে মধ্যবিত্তদের জীবনে, তা কেউ আঁচ করতে পারেন নি।
বর্ষার জেরে স্বস্তির বদলে সবজি কিনতে কার্যত চোখের জল বেরোচ্ছে সাধারণ মানুষের। বৃষ্টির জেরে আমদানিতে খানিক মার খাচ্ছে। এর জেরে মধ্যবিত্তের পকেটে ছ্যাঁকা। রোজকার রান্নায় দরকার, এমন অধিকাংশ সবজির দাম একশো ছুঁইছুঁই।
জানা যাচ্ছে, বেগুন থেকে ঢেঁড়শ, টম্যাটো থেকে কাঁচালঙ্কা– সেঞ্চুরি পার করেছে। আর এর জেরে নিত্যদিন বাজারে গিয়ে রীতিমতো কপালে ভাঁজ পড়ছে মধ্যবিত্তদের। বড় নোট খরচ করে পকেটে আসছে স্রেফ খুচরো। কিন্তু তারপরও জুটছে না মনমতো সবজি, ভরছে না বাজারের ব্যাগ।
দাম কবে কমবে, তা নিয়ে কোনও আশার বাণী শোনাতে পারেন নি ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছরই বর্ষা এলে সবজির দামে কিছুটা হেরফের হয় বটে তবে এবার যেন দাম অনেকটা ঊর্ধ্বের দিকেই। একে তো রোদে গরমে সবজি নষ্ট, তার উপর আবার ঝড়বৃষ্টিতে জোগান মার খাওয়ায় এই পরিণতি হয়েছে।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ক্যানিংয়ের এক চাষি বলেন, “কয়েক মাস আগের কথা, প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। মাঠ শুকিয়ে অর্ধেক সবজি তো তখনই নষ্ট হয়ে গিয়েছে মাঠে। কিন্তু, বর্ষা আসতেই যে বিপত্তি আরও বাড়বে কে ভেবেছিল! বৃষ্টির দাপটে ফসল মজুত ও জোগান দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা এসেছে”।
পাইকারী সবজি ব্যবসায়ী বলেন, “সবজি গাছ মাঠেই নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টির প্রভাব তো একটু হলেও পড়বে মধ্যবিত্তের পকেটে।’’ ফলে ঝিঙে, ঢেঁড়শ, শসা, বেগুন, লাউ, করলা, বরবটি, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা, লাউ, কুমড়ো, বাঁধাকপি-সহ বিভিন্ন সবজির দাম বেড়ে গিয়েছে একধাক্কায় অনেকটাই”।
সবজি বাজার নিয়ন্ত্রণে তৈরি রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে বলেন, “গরমে প্রচুর সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলেই মূলত এই দাম বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরো বাজারের দামের ফারাক অনেকটা বেড়ে না যায়, তা দেখতে আমরা নজরদারি চালাচ্ছি”।





