ইলিশ মাছ, এই নামটার সঙ্গে যেন বাঙালির এক আবেগ জড়িয়ে। সে লোকজন এই ইলিশ নিয়ে ঘটি ও বাঙালদের মধ্যে যতই বিভেদ টানুক না কেন, ইলিশ সকলেরই। বাঙালির ঘরে ইলিশ ভাপে থেকে শুরু করে সরষে ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, ইলিশের বেগুন দিয়ে ঝোলের জুড়ি মেলা ভার।
তবে ভালোমানের ইলিশ খেতে গেলে আজকাল পকেটটা একটু সমঝেই চলতে হয় বই কি! কিন্তু তাহলেও কী আর ভোজনরসিক বাঙালির ইলিশ প্রেম আটকে থাকে। আর এবার শুরু হচ্ছে আসল ইলিশের মরশুম। বর্ষাকাল এসেই গিয়েছে, এই সময় গঙ্গা হোক পদ্মা, ইলিশ তো চাই-ই চাই।
মানুষের ইলিশের এই চাহিদা মেটাতে এবার এক বড় উদ্যোগ নেওয়া হল রাজ্য সরকারের তরফে। এবার পুকুরেও চাষ হবে ইলিশ। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। পুকুরে মিলবে ইলিশ। উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকারের মৎস্য দফতর। এর এই বিষয়ে বিখ্যাত সংস্থা Nofima (Norwegian Institute of Food, Fisheries and Aquaculture Research)-এর সঙ্গে গাঁটছাড়া বেধেছে রাজ্য মৎস্য দফতর।
এই বিষয়ে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরি জানান, “চলতি মাসেই বৈঠক হবে। এমনকী নোফিমার কর্তারা এ রাজ্যেও আসতে পারেন। ফারাক্কার কাছে প্রাথমিক ভাবে কিছু পুকুরকে বাছাই করা হয়েছে। প্রত্যেকটি পুকুর পিছু ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ করা হবে। নোফিমার কর্তারা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন”।
পুকুরে ইলিশ চাষ করার জন্য উপযোগী পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৩ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গিয়েছে। ইলিশের খাদ্য, সংরক্ষণ, প্রজনন ও উপকরণ-সহ যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন তা নেওয়া হবে। এর আগেও পুকুরে ইলিশ চাষের চেষ্টা করা হয়েছে বটে। তবে তা সেভাবে সফল হয়নি।
এই প্রসঙ্গে মৎস্য দফতর স্যামন মাছের উদাহরণ টেনেছে। ইলিশের মতোই স্যামন মাছও সামুদ্রিক মাছ। তবে এই নোফিমার উদ্যোগেই বদ্ধ জলাশয়ে কিছু স্যামন মাছের পোনা প্রতিপালন করা হয়। আর সেই উদ্যোগ সফলও হয়েছে। ইলিশের ক্ষেত্রেও সেই একই আশা রেখেছে মৎস্য দফতর।
তবে ঘটনা হচ্ছে যে ইলিশ মাছ বেশি লবণাক্ত জলে থাকে। আর ডিম পাড়ার জন্য তারা মিষ্টি জলে আসে। সমুদ্রের স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটে ইলিশ মাছ। এই কারণে পুকুরে মিষ্টি জলের পাশাপাশি লবণাক্ত জলও মেশানো হবে বলে জানা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি তৈরি করা হবে কৃত্রিম স্রোতও। বলাই বাহুল্য, এই প্রচেষ্টা যদি সফল হয়, তাহলে ইলিশ চাষের এক নতুন দিক খুলে যাবে।





