বেশ কয়েক মাস ধরেই রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে জল্পনা চলছিল। তিনি যে তৃণমূলে থাকবেন না সে কথা মোটামুটি পরশু থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে কারণ নন্দীগ্রাম দিবসে তিনি একটি অরাজনৈতিক সভার আয়োজন করেছিলেন যেখানে তৃণমূল সরকার বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন নাম উল্লেখ ছিল না।
এবার তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেন সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই। তিনি জানিয়েছেন তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিতে চান। তা হলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রীতিমতো বিপাকে পড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পরশুদিন ১০ই নভেম্বর মঙ্গলবার তৃণমূলের নন্দীগ্রাম দিবস ছিল। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এই বিষয় নিয়ে টুইট করেছিলেন। আবার এই দিনেই একটি অরাজনৈতিক সভা করে তৃণমূলের হৃৎকম্পন বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ছিলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলন এর সেনাপতি অথচ তার এই অরাজনৈতিক সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোন উল্লেখ নেই।
আবার সিঙ্গুর আন্দোলনের যিনি সেনাপতি সেই মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য হঠাৎ করে তৃণমূল ছেড়ে দিতে চাইছেন। তৃণমূলের জেলা কমিটি নিয়ে রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তের বিক্ষোভ চলছে, হুগলিতে যে বিক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসছে। যাতে রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়েছে রাজ্য সরকার। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলী জেলা তৃণমূল কমিটি পাঠ শেষ করার আগেই ঝামেলা শুরু হয়ে যায়। আবার পরে যেদিন জেলা কমিটির অপ্রকাশিত তালিকা প্রকাশ করতে শুরু করেন সেদিনই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানান তিনি তৃণমূলে থাকবেন না।
বিধানসভা নির্বাচনের আর বাকি ছয় মাস কিন্তু মমতার ক্ষমতার অলিন্দ দুই স্থান সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে যেন তৃণমূলের একদম তেজ নেই। ২০০৮ সালের ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রাম দখল করতে ‘অপারেশন সান সাইনের’ কথা প্রথম বলে সিপিএম। ওই দিনটিকে নন্দীগ্রাম দিবস হিসেবে পালন করে তৃণমূল।
কিন্তু এখন শুভেন্দু অধিকারী নিজে তৃণমূলে থাকবেন কিনা সেই নিয়েই উঠে গিয়েছে প্রশ্ন। এরপর মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যও দল ছাড়বেন বলছেন। তাই এখন উভয় সংকটে পড়েছে তৃণমূল। মুকুল রায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত যেমন ধীরে ধীরে নেত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য করে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং রীতিমত সাড়ম্বরে তাদেরকে বিজেপিতে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল।
তবে, বিজেপিতে যোগ দিয়েই শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন শুভেন্দু, এমন সম্ভাবনা নেই। রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের অধীনেই তাকে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, শুভেন্দু অধিকারী কি নিজেই রাজনৈতিক দল তৈরি করবেন? নাকি বিজেপিতেই যাবেন?





