বকেয়া টাকা মেটানো হয়নি, ব্যান্ডেল স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে থাকা ১৫টি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল রেল

বকেয়া ভাড়া মেটায়নি, এই কারণে রবিবার মাঝরাতে ব্যান্ডেল স্টেশনে ১৫টি দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল রেল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ ও হতাশ ব্যবসায়ীরা। তাদের বক্তব্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই ব্যবসার বেহাল অবস্থা। কোনওক্রমে চলছে সংসার। এই পরিস্থিতি ভাড়া কমানোর আবেদন করেছিলেন তারা। কিন্তু ভাড়া কমানো তো দূর, সেই জায়গায় উল্টে দোকান ভেঙে দিয়ে তাদের রীতিমতো পথে বসিয়ে দিল রেল। এই ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগ উঠেছে।

রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের কোনও তোয়াক্কা করেননি। পূর্ব রেলের এক আধিকারিকের কথায়, “বকেয়া মেটানোর কথা বারে বারেই বলা হয়েছে। নোটিস দেওয়া হয়েছে। ওঁরা শোনেননি। সেই কারণেই স্টল ভাঙা হয়েছে”।

একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হল ব্যান্ডেল। দিনভর এখানে নানান শাখার লোকাল চলার পাশাপাশি নানান দূরপাল্লার ট্রেনও থামে একই স্টেশনে। অসংখ্য মানুষের যাতায়াত এই স্টেশনে। প্ল্যাটফর্মে থাকা রেলের এই অনুমোদিত দোকানগুলি থেকে মানুষ খাবার কিনে খান। টুকিটাকি জিনিসও বিক্রি হয়।

রেলকে ইজারা দিয়েই চলে এই সমস্ত দোকান। তবে গত বছর লকডাউনের পর থেকে ছবিটা অনেক পালটে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ট্রেন বন্ধ থাকায় হকারদের ব্যবসা একেবারে তলানিতে। চলতি বছ্রেও দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল ট্রেন।

ব্যবসায়ীদের কথায়, রেল প্রতি বছর এই সব দোকানের জন্য ভাড়া বাড়ায়। করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসার হাল একেবারে তলানিতে। এই কারণে বর্ধিত ভাড়া মকুব করার জন্য রেলের কাছে দাবী জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এরপর তারা আদালতে যান।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মামলা চলাকালীনই কিছুদিন আগেই বকেয়া ভাড়া মেটানোর জন্য রেলের তরফে নির্দেশ দিয়ে নোটিস দেওয়া হয়। অবিলম্বে যদি ভাড়া না মেটানো হয়, তাহলে দোকান তুলে দেওয়া হবে বলে জানায় রেল। আর এরপর গত রবিবার মাঝরাতে রেলের পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই ভেঙে দেওয়া হয় দোকানগুলি।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রেল একতরফা পদক্ষেপ করল। এক চা বিক্রেতা জানান, “দোকানের আয়ে ছ’জনের পরিবার চলে। রেল ভাড়ার টাকা বাড়িয়েই চলেছে। করোনার সময় রোজগার বন্ধ হওয়ায় মেয়েদের পড়াশোনা চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। একটু করে পরিস্থিতি শুধরোচ্ছিল। এখন কী করে সংসার চলবে, বুঝতে পারছি না। করোনার সময় যে ক্ষতি হয়েছিল, রেলের অমানবিকতায় তার চেয়েও বড় ক্ষতি হয়ে গেল”।

এক ব্যবসায়ী এই ঘটনায় বলেন, “বর্ধিত ভাড়াটুকু শুধু মকুবের আবেদন করা হয়েছিল। তার ফল এমন হবে, ভাবিনি। রেলের কাছে আমাদের অনুরোধ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি দেখে বর্ধিত ভাড়া মকুব করে আমাদের আবার বসতে দেওয়া হোক”।

RELATED Articles