গ্রীষ্মের দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে গোটা রাজ্য। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোদের দাপট যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সূর্যের তীব্রতা এতটাই বেশি যে সকাল ১০টার পর থেকেই রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে অফিসযাত্রীরা নাজেহাল, স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরাও বিপাকে। দুপুরের দিকে বাইরে বেরোলেই মাথা ঝিমঝিম ভাব, ক্লান্তি, এমনকি হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
তবে শুধু কলকাতা নয়, তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর-সহ একাধিক জেলা। গরমের দাপটে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। এসি, কুলার, ঠান্ডা পানীয়- সবই যেন ব্যর্থ! মানুষের মনে একটাই আশা— বৃষ্টি! চৈত্রের দাবদাহের মাঝে একটু স্বস্তির পরশ কখন আসবে? আকাশের দিকে চেয়ে দিন গুনছেন রাজ্যবাসী। এই পরিস্থিতিতে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যা নাগাদ পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া এবং কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই বৃষ্টি খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি, তবে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে মানুষকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গরমের তীব্রতা খানিকটা কমেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার এবং আগামীকাল বুধবার রাজ্যের বেশিরভাগ অংশে শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। তবে ২০ মার্চ থেকে ফের একবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এমনকি ২১ ও ২২ তারিখেও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।
বৃষ্টি হলেও তাপপ্রবাহের সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূম জেলায় তাপপ্রবাহ চলবে বলে জানানো হয়েছে। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরেও তীব্র গরম বজায় থাকবে। কলকাতার ক্ষেত্রে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা ৩৩-৩৪ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করবে। তবে রাতের দিকে তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হবে না।
আরও পড়ুনঃ মার্চেই শনি-রাহুর দুর্ধর্ষ যুতি! এই ৩ রাশির ভাগ্য ফেরার অপেক্ষা, আপনি কি তাঁদের মধ্যে আছেন?
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদায় শুক্রবার থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে রাজ্যের তাপমাত্রা খুব দ্রুত কমবে না। গরম থেকে রেহাই পেতে গেলে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে হবে। আপাতত ২০ তারিখের পরই প্রকৃতির মনোভাব বদলাবে কি না, সেটাই দেখার!





