রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty) , নামটা শুনলেই প্রথমেই হয়ত মাথায় আসে সেই ২০০৮-২০০৯ সালের কথা যখন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবি সকলের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। সেই ছবি মূল কাণ্ডারি অর্থাৎ পরিচালক ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। এরপর আরও কত বাংলা ছবি জায়গা করেছে টলিউডের অন্দরে রাজ চক্রবর্তীর (Raj Chakraborty) হাত ধরে। তাঁর নানান ছবির মধ্যে অন্যতম ‘প্রলয়’।
হ্যাঁ রাজ চক্রবর্তীকে (Raj Chakraborty) প্রথম জীবনে সকলে এভাবে চিনে এলেও এখন কিন্তু তাঁর আরও একটা পরিচয় রয়েছে। ব্যারাকপুরের বিধায়ক তিনি। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দল তৃণমূলে যোগ দেন রাজ। ব্যারাকপুর থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে বিধায়ক হন তিনি। আর সেই থেকেই সেই এলাকার মানুষের ভালোমন্দ সবকিছুর খেয়াল রাখার দায়িত্ব বর্তেছে তাঁর উপর। নিজের দায়িত্ব থেকে কখনও পিছপা হন নি তিনি।
ব্যারাকপুর এলাকার নানান সংস্কার ঘটিয়েছেন রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)। ব্যারাকপুর বেশ পুরনো এক শিল্পাঞ্চল। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানান ইতিহাস। ব্যারাকপুরের চিড়িয়ামোড়ে বসেছে গান্ধীজির মূর্তি। তবে এবার ব্যারাকপুরে আরও এক দারুণ কাণ্ড ঘটালেন রাজ চক্রবর্তী। বলা যায়, বাংলার ইতিহাস থেকে শুরু করে দেশের সংস্কৃতিকে এক ছাদ থুরি এক দেওয়ালের মধ্যে নিয়ে এলেন বিধায়ক তথা পরিচালক।
কী কাণ্ড ঘটালেন রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)?
ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে লালকুঠি যাওয়ার পথে পড়ে এক দীর্ঘ দেওয়াল। সেই দেওয়াল ছিল পরিত্যক্ত। বিস্তর নোংরা হয়েই পড়েছিল সেই দেওয়াল। অমন এক ব্যস্ত রাস্তায় এমন দীর্ঘ দেওয়াল কিন্তু এমন নোংরা, এ যেন ঠিক মেনে নিতে পারছিলেন না বিধায়ক। সেই কারণে সেই দেওয়াল রাঙিয়ে তোলার চেষ্টায় নামলেন নিজেই। সেই দীর্ঘ দেওয়ালেই ফুটে উঠল তুলির টান। বিধায়ক তহবিল থেকে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে দীর্ঘ সেই দেওয়ালকে এক নতুন রূপ দিলেন রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)। তুলে ধরলেন বাংলা তথা দেশের সংস্কৃতি।
কী নেই সেই দীর্ঘ দেওয়ালে। নানান ছবি ফুটে উঠেছে ব্যারাকপুরের সেই দীর্ঘ দেওয়ালে। দেওয়ালের প্রথমেই দেখা যায় নানান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি। নেতাজি সুভাসচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে মঙ্গল পাণ্ডে, সকলে পাশাপাশি ঠাঁই পেয়েছে সেই দেওয়ালে। রয়েছে নানান সঙ্গীতশিল্পীদের ছবি। মান্না দে থেকে শুরু করে লতা মঙ্গেশকর, মহম্মদ রফি সকলের ছবি একসঙ্গে ফুটে উঠেছে সেই দেওয়ালে।
শুধু কী তাই! এই দেওয়ালে আবার ফুটে উঠেছে একটুকরো ছেলেবেলাও। আগেকার দিনে ছোটবেলায় বাচ্চারা যেভাবে বায়স্কোপ দেখত, সেই স্মৃতি জ্বলজ্বল করছে এই দেওয়ালেই। রয়েছে বাংলার সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর নানান ছবিও। রয়েছে সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেনের নানান কীর্তি। বাংলা চলচ্চিত্রের সাদাকালো যুগের অংশ। রয়েছে ক্রিকেট যেখানে মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শচীন তেন্ডুলকর সকলের ছবি দেখা যাচ্ছে। আর যেটা না হলে বাংলা ও বাঙালি সম্পূর্ণই হয় না, সেই ফুটবলের চিত্রও দেখা গিয়েছে সেই দেওয়ালে।
এই নিয়ে একটি ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পোস্ট করেছেন রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)। তিনি জানিয়েছেন এই দীর্ঘ দেওয়ালে এই অসামান্য কাজ তুলির টানে ফুটিয়ে তুলেছেন আর্ট কলেজের ছাত্র সায়ন মুখার্জী ও তাঁর টিম। বিধায়কের এহেন এক কাজে কিন্তু বেজায় খুশি ব্যারাকপুরবাসীরাও।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার