একটা শর্ট ফিল্মের জন্য একের পর এক কোপ। আগেই দলের রোষের মুখে পড়েছিলেন তিনি। ডায়মন্ড হারবার জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরানো হয়েছিল তাঁকে। আর এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট থেকেও সরানো হল রাজন্যা হালদারকে।
২০২২ সালে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে সুর চড়িয়ে নজর কেড়েছিলেন রাজন্যা হালসার। এর ফলে তৃণমূলের অন্দরে তাঁর গুরুত্ব বেশ বাড়তে থাকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিটের প্রেসিডেন্ট হন তিনি। কিন্তু আর জি কর কাণ্ডের প্রেক্ষাপটে শর্ট ফিল্ম বানানো, তাতে অভিনয় ও দলের বিরোধিতা করে সেই ছবি প্রকাশে অনড় থাকার দরুন রাজন্যাকে পদ খোয়াতে হলে বলে সূত্রের খবর।
তবে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র রাজন্যাই হালদার নন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গোটা ইউনিটকেই নতুন করে সাজানো হয়েছে। নানান দায়িত্বে নতুন মুখদের আনা হয়েছে। সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তন্ময় প্রামাণিক, ফিরোজ আলি লস্কর, এবং সায়ক চক্রবর্তীকে। আমিনুল ইসলাম মোল্লা, তীর্থরাজ বর্ধনকে নয়া সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শেখ সাহিল, শাহওয়াজ খান, অন্তরা দাস, সোমনাথ সর্দার, উদিতা পাল, রাজ অর্জন সিং ও ঋতম দত্তকে সম্পাদকের দায়িত্বে আনা হয়েছে বলে খবর।
বলে রাখি, আর জি কর কাণ্ডের আবহেই হঠাৎ করেই বেশ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন রাজন্যা হালদার ও তৃণমূল ছাত্রনেতা প্রান্তিক চক্রবর্তী। আর জি কাণ্ড নিয়ে শর্ট ফিল্ম বানান তারা। সেই কারণে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয় রাজন্যা-প্রান্তিক জুটিকে। যদিও এরপরও শর্ট ফিল্ম মুক্তি প্রসঙ্গে অনড় ছিলেন তারা। রাজন্যার কথায়, একটা প্রচ্ছদ দেখে গোটা উপন্যাসকে বিচার করা উচিত নয়।
গতকাল, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলার শুনানি চলাকালীন, রাজন্যা-প্রান্তিকের এই শর্ট ফিল্মের প্রসঙ্গ ওঠে। নির্যাতিতার অভিভাবকদের তরফে এই শর্ট ফিল্মের বিরোধিতা করা হয়। জানানো হয়, এটি একটি স্পর্শকাতর বিচারাধীন বিষয়। এমন সময় এই নিয়ে ছবি তৈরি হলে তা তদন্তে প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুনঃ হাইকোর্ট মুক্তি দিচ্ছে না, জামিন চেয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পুজোর আগেই জেলমুক্তি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর?
সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানান হয়েছিল, এই ছবি মুক্তি বন্ধের জন্য আইনি ব্যবস্তা নেওয়া যেতে পারে। এই চাপের মুখে পড়েই ছবি মুক্তি বাতিল করে রাজন্যা-প্রান্তিক। তাদের তরফে জানানো হয়, তাদের ছনি মুক্তি আপাতত স্থগিত থাকবে। কিন্তু এত সত্ত্বে দলের কোপ থেকে রক্ষা নেই রাজন্যার। যাদবপুরের টিএমসিপি ইউনিট থেকে অপসারিত হতে হল তাঁকে।





