কলকাতা হাইকোর্টে বারবার আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনওভাবেই মঞ্জুর হচ্ছে না তাঁর জামিন। সেই কারণেই এবার জামিনের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এবার বড় এক নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। তাহলে কী পুজোর আগে জেল ঠেলে মুক্তি পাচ্ছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।
২০২২ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপর থেকে কেটে গিয়েছে ২ বছরেরও বেশি সময়। বারবার জামিনের আর্জি জানিয়েও লাভ হয়নি। জেল থেকে মুক্তি মেলেনি প্রাক্তন মন্ত্রীর। সেই কারণে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
পার্থর আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ রয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ ৭ বছর সাজা হতে পারে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগেই তিনি ২ বছর ধরে জেল খাটছেন। তাই তাঁকে দ্রুত জামিন দেওয়ার কথা জানান আইনজীবী। সেই প্রেক্ষিতেই বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ানের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানানো হয়। এদিন এই ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, নিম্ন আদালতকে নিয়মিতভাবে দ্রুত এই মামলা শুনতে হবে। ১০ দিন পর সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে এই মামলার শুনানি।
বলে রাখি, গত শুক্রবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সিবিআই বারবার দাবী করেছে যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রভাবশালী। তাঁকে জামিন দেওয়া হলে তিনি মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন। সাক্ষীদের প্রভাবিত করে প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন বলে দাবী সিবিআইয়ের। তবে পার্থর আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল এখন মন্ত্রী নন। কোনও রাজনৈতিক নেতাও নেই তাঁর পাশে। ফলে তাঁর জন্য প্রভাবশালী তত্ত্ব খাড়া করা যায় না এখন।
এদিন পার্থর আইনজীবী এও আর্জি জানান যাতে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের তুলনা না টানা হয়। তবে বিচারপতি অপূর্ব সিনহা বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট থেকে একজন জামিন পেয়েছেন বীরভূমে। তিনি তো আবার দলে যোগ দিয়েছেন। জামিন পাওয়ার পরেও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও যোগ দিতে পারেন”। এর পাল্টা পার্থর আইনজীবী বলেন, “অনুব্রত বিধায়ক নয়। একজন রিমোট কন্ট্রোলার। গোটা বীরভূম কন্ট্রোল করেন”। তাঁর কথায়, তাঁর মক্কেল এখন কোনও রাজনৈতিক দলে নেই, ফলে তিনি প্রভাবশালী নন। তাই তাঁর জামিনে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এবার সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয় পার্থর মামলায়, সেটাই এখন দেখার!





