শুভেন্দু গেছে, রাজীবকে যেতে দিতে নারাজ তৃণমূল! সম্পর্কের শীতলতা কাটাতে একান্ত বৈঠকে পার্থ 

তৃণমূলের তরীকে দুলিয়ে ২১ বছরের সম্পর্ক ছেড়ে চলে গেছেন শাসক দলের অন্যতম দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েই আওয়াজ দিয়েছেন তৃণমূল উৎখাতের। তবে একা জাননি, সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন তৃণমূল থেকে নিজের বেশ কিছু অনুগামীকেও।
আর বিধানসভা ভোট পূর্ববর্তী দলের এই সঙ্কটের সময় আর এক বিদ্রোহী বেসুরো নেতা তথা মন্ত্রীর মান ভাঙ্গাতে এখন জান প্রাণ এক করে দিচ্ছে শাসক দল।
আজ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছে তৃণমূল।
সূত্র মারফত খবর, আজ অর্থাৎ সোমবার দুপুর নাগাদ দক্ষিণ কলকাতায় দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেই বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
একান্ত বৈঠক হ‌ওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃতীয় কোন‌ও ব্যক্তি এই আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন না বলেই খবর।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর থেকেই তাঁকে সমর্থন করে দলের বিরুদ্ধে জানিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন দলের আরও অনেকেই। নিজের কেন্দ্র হাওড়ার ডোমজুড় এবং জেলার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর সমর্থনে অনুগামীদের পোস্টার, হোর্ডিং দেখা যাচ্ছিল। এ নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয় রাজনৈতিক মহলে।
আর এরপর‌ই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে রাজ্যের শাসকদলের হাইকমান্ড। গত ১৩ই ডিসেম্বর দলের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয় রাজীবকে। সেখানে প্রশান্ত কিশোরও ছিলেন। তিনজনের একান্তে আলোচনা হয়। বৈঠক সেরে বেরিয়ে‌ও শাসক দলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন তখন‌ও প্রকাশ পায়নি।  সমস্যা জিইয়ে রেখে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “সমস্যা হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।” তবে আবারও বৈঠক-আলোচনা হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন সাংবাদিকদের।
তবে শোনা খবর অনুযায়ী, রাজীব শীর্ষ নেতৃত্বকে একান্তে বৈঠকের কথা জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ অন্যদের মতো প্রশান্ত কিশোরের উপস্থিতি তাঁর‌ও না-পসন্দ।
আর, সেইমতোই সোমবার দুপুরে ফের তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে আজ তাঁর সঙ্গে আলোচনার টেবিলে থাকবেন শুধুই পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

RELATED Articles