মন্ত্রী রাজীবের কোপে তৃণমূলের ‘রাঘববোয়ালরা’। একুশের নির্বাচনের আগে তৃণমূলে দুর্নীতির বাসায় ঢিল পড়েছে।

মহা বেকায়দায় শাসক দল। ঠগ বাছতে গিয়ে এখন তাঁরা গভীর সংকটে! ক্রমে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে রাঘ- ববোয়ালদের পর্দা। আর এবার খোদ মন্ত্রীই তৃণমূলে রাঘববোয়াল তত্ত্ব সামনে এনেছেন। হাওড়া তৃণমূলে দুই মন্ত্রীর দ্বন্দ্ব সামনে আসতেই এক মন্ত্রী রাঘববোয়ালদের বিচার চেয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য চুনোপুঁটিদের ধরে কোনও লাভ নেই। শুদ্ধিকরণ করতে গিয়ে তরজা সাংঘাতিক রূপ নিয়েছে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার তৃণমূলে দুর্নীতির বাসায় তাই ঢিল পড়েছে। বিভিন্ন দুর্নীতির ফাঁদ কেটে বেরোতে গিয়ে তৃণমূলে বিভাজন রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বারবার।

জেলার বেশ কিছু পদাধিকারীকে দল থেকে সাসপেন্ড করার পর মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সমালোচনা মুখর হয়ে ওঠেন অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে। রাজীব বলেন, দলে শুদ্ধিকরণের নামে রাঘববোয়াল, রুই-কাতলাদের ছেড়ে চুনোপুঁটি নেতাদের দুর্নীতি বের করা হচ্ছে।রাজীবের সাফ কথা, হেভিওয়েট নেতারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন বেমালুম। কিন্তু চুনোপুঁটিরা দল থেকে বিতাড়িত হচ্ছেন। রাজীবের এই মন্তব্যকে দল বিরোধী বলে দাবি করেছে তৃণমূলের একাংশ। কেননা দল এখন শুদ্ধিকরণের রাস্তায় হাঁটছে। আর সমালোচনা করছেন কিনা খোদ মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজীবের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে অরূপ রায় বলেন, রাজীবের কোনও ভিন্নমত থাকতেই পারে। সেটা প্রকাশ্যে বলা ঠিক হয়নি। হাওড়া জেলার পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিমও বলেন, রাজীব দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ওর যদি কোনও মত থাকে দলের সামনেই বলা উচিত। কিছু বলার থাকলে আমাকে বলতে পারত। দলকে বলতে পারত। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনে বলে ঠিক করেনি।

তবেই পরিপ্রেক্ষিতে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। তিনি বলেন, তৃণমূলই তো স্পষ্ট করে দিচ্ছে দলে দুর্নীতির সীমা-পরিসীমা নেই। দলেই অনেক রাঘববোয়াল আছে। এখন সব চুনোপুঁটিদের ধরা হচ্ছে। রাঘববোয়ালরা বহাল তবিয়তে রাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment