লকডাউনের সময় বাংলার মানুষকে বিনামূল্যে রেশন বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এর মধ্যে একবারের জন্যও এই সময়ে কোনওরকমের কমিশন পাননি রেশন ডিলাররা। এবার এই অভিযোগ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হলেন তারা।
লকডাউনের পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এপ্রিল মাস থেকে বিনামূল্যেই রেশন বিতরণ করেছেন রেশন ডিলাররা। প্রতি কুইন্টাল চাল, ডাল, গম বা ছোলা, সব খাদ্য শস্যের ক্ষেত্রেই ডিলারদের ৭০ টাকা করে পাওয়ার কথা। কিন্তু ডিলারদের অভিযোগ টানা ৭ মাস ধরে কোনও কমিশন পাননি তারা। অথচ রেশন বণ্টন করেছেন সরকারের নিয়ম মেনেই। এবার তাই বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে চিঠি দিলেন রেশন ডিলাররা।
কমিশন না পাওয়ার জন্য তারা দোষী ঠাওরেছেন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে। এই বিষয়ে ডিলারদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের অভিযোগ, তাদের কমিশনের টাকা ঠিক সময়ে ব্যাঙ্কে জমা পড়েছে কিন্তু ব্যাঙ্ক তা ডিলারদের না দিয়ে অন্য খাতে খরচ করেছে। ফেডারেশন থেকে চিঠিতে জানানো হয়েছে যে এই মুহূর্তে রাজ্যে মোট রেশন ডিলারের সংখ্যা ২০ হাজার ৭৮০। এদেড় মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ ডিলারই কমিশনের টাকা পেয়েছেন। এই গোটা বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী নভেম্বর মাস থেকে কেন্দ্র আর পশ্চিমবঙ্গকে বিনামূল্যে রেশন পাঠাবে না। এর জন্য রাজ্যের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনা হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্র থেকে রাজ্যকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল রাজ্য যেন আগস্ট মাসেই সেপ্টেম্বর মাসের বিলি বণ্টনের হিসে সেরে রাখে কিন্তু এই বিষয়ে রাজ্য কোনও আমল দেয়নি। পরবর্তীকালে নির্দিষ্ট পোর্টালের পরিবর্তে ই পাশ মেশিনে দাখিল করা হয় সব হিসেব। এরপরই কেন্দ্র থেকে জানানো হয় যে নভেম্বর থেকে আর বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হবে না রাজ্যকে। এর ফলে রাজ্যে খাদ্যশস্যের ঘাটতি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে পিএইচএইচ, অন্ত্যদয় অন্ন যোজনা ও এসপিপিএইচএইচ-এর আওতায় থাকা গ্রাহকেরা সমস্যায় পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে।





