বাস্তব জীবনের ‘টুয়েলভথ ফেল’! জলপাইগুড়ির এসপি-র জীবন কাহিনী শুনলে চোখ বেয়ে জল পড়তে বাধ্য আপনার

ইংরেজিতে ২১ পেয়ে তিনিও কিন্তু ‘টুয়েলভথ ফেল’। তবে সেই জায়গা থেকে উঠে এসে কীভাবে নিজেকে একজন এসপি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন বাংলার এই পুলিশ আধিকারিক, তা জানলে সত্যিই অবাক হতে হয় বৈ কী! চেষ্টা কাউকে নিরাশ যে করে না, তার প্রমাণ আজও দিয়ে চলেছেন কিছু মানুষ। আর তাদের মধ্যে জলপাইগুড়ির এসপি খন্ড বহালে উমেশ গণপত অন্যতম।

আইপিএস অফিসার মনোজ শর্মার জীবন কাহিনীকে রূপোলী পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়া। কীভাবে দ্বাদশ শ্রেণীতে ফেল করেও সফল একজন আইপিএস অফিসার হলেন মনোজ শর্মা, সেই গল্পই ফুটে উঠেছে ‘টুয়েলভথ ফেল’ ছবিতে। তবে এসবের আড়ালে থাকা জলপাইগুড়ির আরও এক আইপিএস অফিসারের জীবন কাহিনীও কিন্তু কম অনুপ্রেরণা যোগায় না।

কে এই খন্ড বহালে উমেশ গণপত?

খন্ড বহালে উমেশ গণপত মহারাষ্ট্রের মাহিরাভনি গ্রামের বাসিন্দা। দ্বাদশ শ্রেণীতে ইংরেজিতে ২১ পেয়েছিলেন তিনি। তিনিও ‘টুয়েলভথ ফেল’। ফেল করার পর আর পড়াশোনা করেন নি গণপত। বাবার সঙ্গে দুধ বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। চাষ-আবাদও করতেন। সেটাকেই নিজের ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছিলেন গণপত। তবে উপরওয়ালা যে তাঁর ভাগ্যে অন্যরকম কিছুই লিখে রেখেছিলেন, তা তখন বুঝতেও পারেন নি গণপত।

নিজের মনের ইচ্ছার জোরেই দু’বছর বাদে ফের পড়াশোনা শুরু করে গণপত। একে একে দ্বাদশ শ্রেণী, কলেজের গণ্ডি পার করেন তিনি। এরপর বসেন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায়। নিজের যোগ্যতার জেরে সেই পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন গণপত। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন আইপিএস অফিসার হিসেবে।

সেই দ্বাদশ শ্রেণী ‘ফেল’ করা ব্যক্তিই আজ জলপাইগুড়ি পুলিশের এসপি-র দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এখনও প্রশাসনিক কাজ সামলে সময় পেলেই তিনি চলে যান ছাত্রছাত্রীদের কাছে। নিজের জীবনের ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছনোর কাহিনী শোনান তাদের। ছোটো ছোটো ব্যর্থতার কারণে মন ভারাক্রান্ত না করে ঘুরে উঠে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগান জলপাইগুড়ির ‘টুয়েলভথ ফেল’ এসপি।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles