বর্তমানে রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment scam) নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। শাসক দলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে এই দুর্নীতিতে। আর এমন আবহে এবার বামেদের (CPM) পাল্টা তোপ দাগতে শুরু করেছে তৃণমূল (TMC)। বাম আমলে চিরকুটের সুপারিশে চাকরি হয়েছে একাধিকের, এমনই অভিযোগ করা হয়েছে শাসক দলের তরফে। আর তা নিয়ে এখন দু’পক্ষের মধ্যে তরজা তুঙ্গে।
এসবের মাঝেই বামনেতা সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রী মিলি চক্রবর্তীর চাকরি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। যোগ্যতা নয়, সুপারিশের জেরেই চাকরি হয়েছে মিলিদেবীর, এক সুপারিশপত্র প্রকাশ করে তেমনটাই দাবী করেছে তৃণমূল। যদিও বর্ষীয়ান বামনেতা বিমান বসু জানিয়েছেন যে বাম আমলে এভাবে চিরকুটের সুপারিশে চাকরি হত না।
এসবের মাঝেই এবার সামনে এসেছে ২০০৭ সালের দুটি চিরকুট। এই চিরকুটের মাধ্যমেই চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুজন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। চিরকুটগুলি লেখা তৎকালীন সিপিএম সাংসদ সুজন চক্রবর্তীর লেটার হেডেই। তাতে দক্ষিণ ২৪ পরগণার মগরাহাটে এক পার্টি পরিবারের সদস্যকে চাকরি করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এই দু’টি চিরকুটের একটি পাঠানো হয়েছিল তৎকালীন পরিবহণমন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীকে। আর অন্য চিরকুটটি পাঠানো হয়েছিল সুভাষবাবুর তৎকালীন কনফিডেন্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিখিল পালকে। সেই দুটি চিরকুট নিয়ে এবার নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যদিও এই চিরকুটের সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭।
০৫.০৫.০৭ তারিখে রাজ্যের পরিবহণ দফতরে চাকরি করে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করে প্রথম চিরকুটটি সুজন চক্রবর্তী পাঠিয়েছিলেন সুভাষ চক্রবর্তীকে। ওই চিরকুটে সুজনবাবু লেখেন, “কমরেড সুভাষ চক্রবর্তী, আশাকরি ভালো আছেন। পত্রবাহককে পাঠালাম। ভালো ছেলে। মগরাহাটের পার্টি পরিবারের সদস্য। পুল কারের জন্য। ইন্টারভিউতে পাশ করেছে। যদি দেখে নেন ভালো হয়। খুবই ভালো ছেলে”। সেই চিঠির বয়ানের নিচে সইও রয়েছে সুজনবাবুর।
আর দ্বিতীয় চিরকুটটি পাঠানো হয়েছিল নিখিল পালকে। সেখানে লেখা, “কমরেড নিখিল/ সিএ টু সুভাষ চক্রবর্তী, কথামতো পত্রবাহক কমরেডকে পাঠালাম। প্র্যাকটিকাল টেস্টে পাশ করেছে। করে দিতে হবে”। এই চিঠিতেও সই রয়েছে সুজনবাবুর আর তারিখ উল্লেখ করা রয়েছে ০৫.০৫.০৭-এর। নির্দেশ আকারেই যেন পাঠানো হয় সেই চিঠি।
এই দু’টি চিরকুটের কথা সামনে আসতেই বাম আমলে চিরকুটের সুপারিশে চাকরি নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে। যদিও লেটার হেডে এই লেখার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সুজন চক্রবর্তী। এই বিষয়ে তাঁর যুক্তি, “আমি সাংসদ থাকার সময় কমরেড সুভাষ চক্রবর্তীকে একটি চিঠি লিখেছিলাম। গ্রামের একটি গরিব ছেলে পুলকারের চাকরির ইন্টারভিউতে পাশ করেছিল। তার যাতে খারিজ না হয়, তা চেয়েছিলাম। এর সঙ্গে চাকরি বিক্রির সম্পর্ক নেই”।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!