‘দিদি তো সামান্য কিছু দিয়ে সন্তুষ্ট করলেন, চাপে পড়ে সহ্য করতে হল, কিন্তু নিরাপত্তা কোথায়’, এখনও আতঙ্কে বাগটুই গণহত্যাকাণ্ডে স্বজনহারারা

বাগটুই গণহত্যাকাণ্ডের আড়াই দিন পর আজ, বৃহস্পতিবার সেই গ্রামে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে মৃতদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাদের সান্ত্বনা দেন। তবে তা সত্ত্বেও ভয় কাটছে না মৃতদের পরিবারের।

স্বজনহারা সেই অভিশপ্ত পরিবারের সদস্য শেখ লাল শেখ বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী তো সামান্য কিছু দিয়ে আমাদের সন্তুষ্ট করলেন। এখন চাপে পড়ে আমাদের সহ্য করতে হল। এত লোক… গ্রামে ফিরতে গেলে তো যথাযথ নিরাপত্তা দিতে হবে পুলিশকে”।

মুখ্যমন্ত্রী তখন বাগটুইয়ের ওই গলি ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছেন। সেই স্মসয় স্বজনহারাদের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। তাদের মধ্যে থেকে এক বয়স্কা ব্যক্তি ভিড় ঠেলে বেরিয়ে এসে বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় খুশি নই। আমাদের যেরকম ঘর ছিল, আত্মীয় ছিল, সব ফিরে পেতে চাই। টাকা পয়সা কিচ্ছু নেব না”। এরপরই তাঁকে অন্যান্য গ্রামবাসীরা অন্য জায়গায় নিয়ে চলে যান। তবে মৃতদের পরিজনরা যে গ্রামে ফিরে যেতে এখনও আতঙ্কে রয়েছেন তা বেশ স্পষ্ট।

এদিন বগটুই গ্রামে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আক্রান্তদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেন। যাদের ঘর পুড়ে গিয়েছে তাদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে আরও ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি মৃতদের পরিজনদের চাকরি দেওয়ার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বগটুই গ্রামে পৌঁছেই পুলিশের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন যাতে এই গণহত্যা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আনারুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই তৎপর হয় পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর আনারুলের খোঁজ করতে থাকে পুলিশ। অবশেষে তারাপীঠের এক হোটেল থেকে আনারুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

RELATED Articles