জন্ম থেকেই নেই দুই হাত, দু’ পা-কে সঙ্গী করেই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে চাষির ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীর সায়ন

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই তার। তাই দু’পা-ই একমাত্র সম্বল। পা দিয়েই হয় লেখা, খাওয়া, সমস্ত কাজই। ছেলেকে নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মা। জন্মের পর জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই জীবনের চরম সত্যির মুখোমুখি হয় ছোট্ট সায়ন। সে যে অন্যান্য বাচ্চাদের মতো নয়, তা বুঝে যায়। কারণ তার যে হাতই নেই। সেই থেকেই ভরসা তার দুই পা।

খাওয়াদাওয়া করাই হোক বা লেখা, চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানো, সবটাই সায়নকে করতে হয় পা দিয়েই। আর তাতে তার সঙ্গী তার মা। কীভাবে পা দিয়ে জীবন নির্বাহের সমস্ত কাজ করতে হবে, তার প্রশিক্ষণ সায়নকে দেন তার মা। সায়নকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার মায়ের। মায়ের ইচ্ছা, ছেলে বড় হয়ে শিক্ষক হবে।

হুগলির পাণ্ডুয়ার পোটবা গ্রামের বাসিন্দা দীপঙ্কর মুর্মু ও প্রতিমা মুর্মু। তাদের ছোটো ছেলে সায়ন। এখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে সে। কখনও দাদার সঙ্গে স্কুলে যায় তো কখনও আবার মায়ের সঙ্গে। সায়নের জন্মের পরই তার মা যেন আঁতকে উঠেছিলেন। ছেলের যে দুটো হাতই নেই। ধাতস্থ হতে সময় লাগলেও নিজেকে শক্ত করে প্রতিজ্ঞা করেন যে ছেলেকে অন্য সব বাচ্চাদের মতো করেই বড় করে তুলবেন তিনি।  

এরপর থেকেই জীবন যুদ্ধের লড়াই শুরু হয় প্রতিমাদেবীর। সঙ্গে লড়াই শুরু হয় সায়নেরও। পা দিয়েই কীভাবে চামচ ধরে খাবার মুখে তুলতে হয়, কীভাবে পা দিয়েই লিখতে হয়, সবটা তাকে শিখিয়েছেন তার মা।

সায়নের বাবা পেশায় চাষি। আগে স্বামীকে চাষবাসে সাহায্য করতেন প্রতিমাদেবী তবে এখন সায়নকে অনেকটা সময় দিতে হয় বলে আর সাহায্য করা হয়ে ওঠে না। সায়নকে নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকেন তার মা। ছেলেটার যে হাত নেই, কীভাবে জীবন কাটাবে। মায়ের চিন্তা থেকেই হয়ত পড়াশোনায় আরও বেশি জোর দেয় সায়ন। মায়ের ইচ্ছা ছেলে বড় হয়ে শিক্ষক হবে। সেদিকেই লক্ষ্য রেখে এগিয়ে চলেছে সায়ন নিজেও।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles