মহালয়া চলে গেছে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আর হাতে গোনা কয়েকদিন। কিন্তু কল্লোলিনী তিলোত্তমার বুকে আজ আর আনন্দ নেই রয়েছে বিষাদের সুর। কারণ কলকাতা তার নিজের মেয়ে তিলোত্তমাকে হারিয়েছে তাই দুর্গাপুজোর উৎসব যেন হয়ে উঠেছে প্রতিবাদে মুখর। সেই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন তারকা থেকে শুরু করে চিকিৎসক, জনমজুর থেকে শুরু করে গায়ক, শিল্পীরা। এইবার নিজের শিল্পকর্মের মধ্যে দিয়ে নিজের প্রতিবাদকে তুলে ধরছেন সনাতন দিন্দা (Sanatan Dinda)।
আর জি কর কাণ্ডের শুরু থেকে প্রতিবাদে যারা যারা মুখর হয়েছেন, তাদের মধ্যে সনাতন দিন্দা অন্যতম। কখনও তার হাতের রং তুলিতে ফুটে উঠেছে তিলোত্তমার প্রতিচ্ছবি, কখনও আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে তিলোত্তমাকে বোন বলে উল্লেখ করে ২০১১ সাল থেকে পাওয়া রাজ্য চারুকলা ভবনের সদস্যপদ পরিত্যাগ করেন তিনি। এইবার শিল্পের আদল ভেঙে মাতৃমূর্তির মধ্যে দিয়ে প্রতিবাদ করছেন সনাতন দিন্দা। এইবছর ভবানীপুর ৭৫ পল্লী ও বাঘাযতীন বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মাতৃ প্রতিমা নির্মাণ করবেন শিল্পী।
এই দুই মন্ডপে র জন্য তৈরি করা তার মাতৃ প্রতিমা দেখলে চমকে উঠতে হয়! বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে করা তার শিল্পের আদল তিনি নিজে হাতেই ভেঙেছেন এই বছর। যে মাকে তিনি কোমলমতী করে তুলে ধরেছিলেন, তুলে ধরেছিলেন মমতাময়ী রূপে ,সেই মা আজ তার হাতে হয়ে উঠেছেন ওসুর দলনী। মহান শিল্পী পিকাসোর কথা স্মরণে রেখেই সময়ের দাবি মেনেই শিল্পী আঁকছেন দ্রোহ কাল। কলকাতার থিম পুজোর অন্যতম অগ্রণী শিল্পী সনাতন দিন্দা।
দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর মা দুর্গাকে তিনি এঁকেছিলেন ঘরের মেয়ে রূপে, ঘরের মা রূপে, প্রেমিকার রূপে। মায়ের হাতের অস্ত্র নামিয়ে মায়ের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছিলেন কোমল রূপ, সেই রূপের পরিবর্তন আনছেন এবার শিল্পী। এইবছর তার করা মাতৃ মূর্তিতে কোথাও কোমলতার লেশমাত্র নেই। সনাতন দিন্দা বলেন, “মাকে আমি আমার ঘরের মেয়ে, প্রেমিকা রূপে তুলে ধরেছিলাম তাই অস্ত্র নামিয়ে নিয়েছিলাম, কিন্তু এবার আবার মায়ের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছি, অস্ত্র তুলে দিচ্ছি আমার ঘরের মেয়ের হাতে, প্রেমিকার হাতে”।
আরও পড়ুনঃ অযোগ্য হয়েও সন্দীপের অঙ্গুলিহেলনে হাউস স্টাফ হন, আর জি করের থ্রেট কালচার ও দুর্নীতির মূল হোতা আশিস পাণ্ডেই, আদালতে জানাল সিবিআই
সনাতন দিন্দা বলেন, “বিখ্যাত শিল্পী পিকাসো আমাদের শিখিয়েছিল যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরতে, দুমাস হয়ে গেল এখনও বিচার পাওয়া হল না, অথচ উৎসব চলে এসেছে। উৎসবটা কী? দুর্গোৎসব। মা দুর্গা যার দশটা হাত, অসুরবিনাশিনী, একদম ঠিক ঠিক সময়ে উৎসবটা এসেছে বিদ্রোহ করার জন্য”। একই সাথে শিল্পী সকলের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আমরা তো ট্যাক্স দিয়ে খাই, কিন্তু বিনিময়ে আমরা কী পাই? সুরক্ষা? নেই। এই তো পুলিশ প্রশাসনের অবস্থা? স্বাস্থ্য? নেই! শিক্ষা ব্যবস্থার কথা তো ছেড়েই দিলাম”। উল্লেখ্য, সনাতন দিন্দা প্রথম যিনি মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে মায়ের চক্ষু দান করিয়েছিলেন, আর জি কর কাণ্ডের পর তিনি বলেন. “আমি নিজের পাপস্খলন করছি”।





