জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের আগামী পথ কী হতে চলেছে, তারা কী কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবেন নাকি বিকল্প কোনও আন্দোলনের পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে উদ্বেগের অন্ত নেই। আর দু’দিন পরই শুরু হতে চলেছে দুর্গাপুজো। এমন অবস্থায় কী কর্মবিরতিতে অনড় থাকবেন জুনিয়র চিকিৎসকরা, সেটাই এখন প্রশ্ন অনেকের।
আজ, শুক্রবার ফের শহরে মিছিল করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এসএসকেএম থেকে ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেল পর্যন্ত মিছিল করবেন তারা। এরপর মেট্রো চ্যানেলে তাদের অবস্থানের জন্য প্রশাসনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেই অবস্থান থেকেই তারা কর্মবিরতির ঘোষণা করতে পারেন।
সূত্রের খবর, কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার ঘোষণা করে দাবীদাওয়া পূরণের জন্য প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দিতে পারেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রশাসন যদি দাবী না মানে, তাহলে অনশনের পথেও হয়ত হাঁটতে পারেন তারা। অনশন চললে কর্মবিরতি তুলে নেওয়া কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত গতকাল, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার কিছু পরে শুরু হয় এই জিবি বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নানান বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসকরা। সেই বৈঠক শেষ হয় আজ সকাল ৮টা সাড়ে ৮টা নাগাদ। এই দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা বৈঠকে জুনিয়র চিকিৎসকরা কী সিদ্ধান্ত নিলেন, তা জানার জন্য মুখিয়ে সকলে। কর্মবিরতি কী উঠে যাবে, কোন পথে চলবে আন্দোলন, কী সিদ্ধান্ত হবে জুনিয়র চিকিৎসকদের?
আর জি কর কাণ্ডের আবহে অনেকেই প্রথম থেকে ‘উৎসবে ফিরছি না’ বলে বার্তা দিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে লেখালেখিও হয়। তবে মহালয়ার সন্ধ্যেতেই যেন আমূল পরিবর্তন চিত্রপটে। যে হারে জনস্রোত মহালয়ার দিনই প্রতিমা দর্শনে বেরিয়েছিলেন, তা নিয়ে বেশ চিন্তিত জুনিয়র চিকিৎসকরা। মানুষ যদি পাশে না থাকে, তাহলে আন্দোলন চালয়ে যাওয়া যে বেশ কঠিন হবে, তা তারা বেশ বুঝতে পেরেছেন।
সরকারকে নতুন করে বেশ কিছু দফা দাবী দিয়েছেন জুনিয়র চিকিতসকরা। থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধেও দাবী উঠেছে। সরকার তা নিয়ে কতটা কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখতে চাইছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তবে পুজোর মধ্যে কর্মবিরতি চালানো বেশ কঠিন। পুজোর সময় অনেক চিকিৎসকই ছুটির মধ্যে থাকেন। চিকিৎসক সংখ্যা এমনিতেই কম থাকে। তার উপর যদি জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলে, তাহলে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা যে ভেঙে পড়বে, তা বেশ স্পষ্ট।
আবার অন্যদিকে সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশও চাপ দিচ্ছেন কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার জন্য। তাদের মতে, পূর্ণ কর্মবিরতি না করাই ভালো। আন্দোলন চলুক, তবে কর্মবিরতি বা মানুষের অসুবিধা করে নয়। ফলে পূর্ণ কর্মবিরতি থেকে এবার জুনিয়র চিকিৎসকরা সরে আসেন কী না সেটাই দেখার!





