‘আমাদের ভুল বোঝানো হয়েছিল’, ভোটের প্রাক্কালে আচমকাই ভোলবদল, হঠাৎ কী কারণে এমন পাল্টি খেলেন সন্দেশখালির নির্যাতিতারা?

কোলে বাচ্চা নিয়ে অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছিলেন তিনি। সন্দেশলখালির (Sandeshkhali) মহিলাদের উপর হওয়া ভয়ঙ্কর সেই নির্যাতনের কথা সকলের সামনে তুলে ধরেছিলেন। পুলিশের বেশে কীভাবে তাঁর উপর অত্যাচার হয়েছিল, তা জানিয়েছিলেন। সেই খবর প্রকাশিত হওয়ায় নড়ে ওঠে প্রশাসন। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে গোপন জবানবন্দি দেন। সেই লড়াকু মুখ রেখা পাত্রকেই বসিরহাট থেকে লোকসভা ভোটের জন্য প্রার্থী করেছে বিজেপি। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ পাল্টি খেলেন সন্দেশখালির নির্যাতিতারা।

রেখা পাত্রকে প্রার্থী করা নিয়ে বেশ রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। রেখা পাত্রকে প্রার্থী করতেই এর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন সন্দেশখালির (Sandeshkhali) নির্যাতিতাদের একাংশ। তারা অভিযোগ করেছিলেন, প্রার্থী হতেই নাকি রেখা দুর্ব্যবহার শুরু করেছেন তাদের সঙ্গে। তিনি নাকি বলেছেন, তাঁর সন্দেশখালির ভোটের প্রয়োজন নেই। এই নিয়ে দোলের দিন উত্তপ্ত হয় সন্দেশখালি (Sandeshkhali)

কিন্তু এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ভোল বদলে গেল সেই মহিলাদের। যে মহিলা গতকালই রেখার বিরুদ্ধে বলেছিলেন, “যে নিজের নামটুকুই সই করতে পারে না, সে লোকসভা কী বিধানসভা কোথাওই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নয়”। তিনিই আবার আজ বললেন, “আমরা রেখার পাশে আছি। আমাদের ভুল বোঝানো হয়ছিল। রেখা পাত্র আমাদের‌ই একজন। রেখা প্রার্থী হওয়ায় আমরা খুশি”।

হঠাৎ কোন ম্যাজিকে পাল্টে গেলেন সন্দেশখালির (Sandeshkhali) মহিলারা?

রেখা পাত্রের বিরোধিতা করে গতকাল, সোমবারই এক মহিলা বলেছিলেন, “আমরা পরিশ্রম করেছি বলেই ও আজকে এখানে। ওর কোনও যোগ্যতাই নেই”। সেই মহিলাই আবার আজ বললেন, “গতদিনের জন্য আমরা রেখার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাদেরকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। অন্য লোকের দ্বারা, অন্য পার্টির লোক আমাদের ভুল বোঝাচ্ছিল। আমরা সেটা বুঝেছি। আমরা রেখার পাশে রয়েছি”।

কোনও মহিলার কথায়, “ওর সঙ্গে আমাদের অনেক পুরনো সম্পর্ক। আমরা প্রথম থেকেই ওর পাশে রয়েছি। আমাদের বাড়িতে লোক এসেছিল। ওরা বলেছিল, আমরা নাকি বিজেপিকে ভোট দিয়েছি। আমরা বললাম না. তারপরও আমাদের পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে গেল”।

যদিও এখনও ক্ষোভ রয়ে গিয়েছে একাংশের মধ্যে। সন্দেশখালির (Sandeshkhali) এক নেতার কথায়, “প্রার্থী পদ ঘোষণা হওয়ার পরই গ্রামে মা-বোনেদের প্রতি তার যে ব্যবহার, তা বলার মতো নয়। এর জন্য রেখা পাত্রই সম্পূর্ণ দায়ী। যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁরা লোকের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে ভোট ভিক্ষা করতে। আর রেখা পাত্র ভাগ্যবান। তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। অথচ তিনিই এলাকা ছাড়া। তাঁকেই মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছে। আর রেখা পাত্র বলছেন, তাঁর সন্দেশখালির মানুষের ভোটের কোনও প্রয়োজন নেই। রেখা পাত্রকে অন্তত ৫০ বার ফোন করা হয়েছে। একবারও ফোন ধরেনি”।

এই প্রসঙ্গে কী বললেন সন্দেশখালির (Sandeshkhali) প্রার্থী?

রেখা পাত্রের কথায়, “আমি শুনলাম আমি নাকি বলেছি, সন্দেশখালির (Sandeshkhali) ভোট আমার লাগবে না। আমি তো একথা বলতে পারি না। সন্দেশখালির মায়েরাই তো আমাকে এই অবধি পৌঁছেছে। তাই একথা আমি কোনওদিনও বলতে পারব না। সন্দেশখালির মুখ আমি। সন্দেশখালির যত মা রয়েছেন, সবাই প্রার্থী”।

RELATED Articles