ভোটের মুখে ফের বড় ভাঙন উত্তরবঙ্গের তৃণমূলের ঘাঁটিতে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর (Udayan Guha) ডেরা থেকে এবার তৃণমূল পদাধিকারীকে বের করে নিজের দলে ভেড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik)। এর ফলে নিশীথ বনাম উদয়ন ডুয়েল আরও দৃঢ় হল।
দিনহাটা ২ নম্বর ব্লক কার্যত রাজ্যের মন্ত্রীর উদয়ন গুহর (Udayan Guha) খাসতালুক বলেই পরিচিত। আর সেখানেই এবার ভাঙন ধরালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শাসক শিবিরে এই ভাঙনের ফলে যে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী উত্তরবঙ্গের গেরুয়া শিবির।
উদয়ন গুহ ও নিশীথ প্রামাণিকের (Nisith Pramanik) দ্বন্দ্ব কোনও নতুন ঘটনা নয়। মাঝেমধ্যেই একে অপরকে শানাতে কসুর করেন না তারা। একে অপরকে বাক্যবাণে বিঁধতে তারা সদা প্রস্তুত। কিছুদিন আগেই প্রকাশ্য রাস্তায় বিবাদে জড়িয়েছিলেন দুই দলের দুই নেতা। আর এবার নিশীথ উদয়নের খাসতালুক ভাঙানোর ফলে যে এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হল, তা বলাই বাহুল্য।
কে যোগদান করলেন বিজেপি?
উদয়নের ঘাঁটি থেকে বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের দিনহাটা ২ ব্লক সভাপতি সুকুমার বর্মণ। ভোটের আগে যে এই দলবদল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, যা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গতকাল, সোমবার বিকেলে কোচবিহারে নিশীথের (Nisith Pramanik) বাসভবনে গিয়েই গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেন সুকুমার বর্মণ।
কেন হঠাৎ এই দলবদল?
সুকুমার বর্মণের কথায়, যারা দলীয় সংগঠন তৈরির জন্য বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, আজ তারাই দলে লাঞ্ছিত, অবহেলিত। তাঁর কথায়, “এখন দলের মধ্যে কোনও নিয়ম শৃঙ্খলা নেই। সিন্ডিকেট রাজ চলছে। পয়সা দিয়েই সব হচ্ছে। পঞ্চায়েতের মনোনয়ন দিতে হল পয়সা দিয়ে। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রধান ঠিক করা হল। সবই হচ্ছে পয়সার বিনিময়ে”।
এই দলবদলে কী ধাক্কা খেল তৃণমূল?
এই দলবদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে যদিও নারাজ তৃণমূল। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দীপক ভট্টাচার্যের কথায়, “সুকুমার বর্মণ শুধু খাতায় কলমেই ব্লকের যুব সভাপতি ছিলেন। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই দলে কোনও সক্রিয় ভূমিকা ছিল না”।





