BREAKING: ইস্তফা দেওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন পদ, এবার ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজে সন্দীপ ঘোষ, আর জি করের অধ্যক্ষ হিসেবে পদত্যাগ স্রেফ লোক দেখানো?

আর জি কর কাণ্ডে গোটা রাজ্যে ছড়িয়েছে বিক্ষোভের আগুন। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন চিকিৎসকরা। রাজ্যের নানান মেডিক্যাল কলেজে বন্ধ জরুরি পরিষেবাও। এরই মধ্যে আর জি করের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের পদত্যাগের দাবী উঠেছিল ছাত্র সংগঠনের তরফে। আজ, সোমবার সকালে ইস্তফা দেন তিনি। কিন্তু সেই ইস্তফার ৬ ঘণ্টা না পেরোতেই নতুন পদ পেলেন সন্দীপ ঘোষ।

আজ, সোমবার ইস্তফা দেওয়ার সময়ে আরজি করের বাইরে দাঁড়িয়েই সন্দীপ ঘোষ বলেন, “ঘটনার পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পৌঁছে যান ঘটনার ২ ঘণ্টার মধ্যে। পুলিশ পৌঁছে যায়। সিপিও আসেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আন্ডারে সব কিছুই কমপ্লিট হয়ে যায় খুবই অল্প সময়ের মধ্যে। সে রকম যদি হত, আমার হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ১ ঘণ্টার মধ্যে আমি পুলিশকে হ্যান্ডওভার করতাম না। অনেক ক্ষেত্রে দোষীদের ধরতেই পুলিশের অনেক সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে কিন্তু বেশি সময় লাগেনি। ১ জনকে অন্তত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধরে ফেলেছে”।

এরই মধ্যে আবার আজই মৃতা তরুণী চিকিৎসকের বাড়ি গিয়ে আর জি করের অধ্যক্ষের পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “অধ্যক্ষের পদত্যাগ নিয়ে তিনি জানান, “দিনকয়েক ধরে তিনি নিজে (সন্দীপ ঘোষ) ও তাঁর সন্তানেরা মানসিক চাপে রয়েছেন। তাই আজ অধ্যক্ষ নিজেই ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। উনি বলছিলেন যে আমার বাড়িতেও বাচ্চারা আছে। আমায় গালিগালাজ করছে। আমরা ওঁকে বুঝিয়ে বলেছি ঠিক আছে কাজ করতে হবে না। আমরা ওঁকে সরিয়েছি অন্য জায়গায়”। যে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, তাকেই ক্লিনচিট দিয়েছিলেন মমতা।

আর এরপরই ঘটল এক কাণ্ড। সন্দীপ ঘোষ ইস্তফা দেওয়ার পর ঠিকভাবে ৬ ঘণ্টাও কাটল না, এরই মধ্যে নতুন পদও পেয়ে গেলেন তিনি। তাঁর পদত্যাগ নিয়ে যে ধোঁয়াশা রয়েছে, তা আগেই লিখেছিল খবর ২৪৭। আর সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আসলে ইস্তফা নয়, বদলি হয়েছে সন্দীপ ঘোষের। আর জি করের অধ্যক্ষ পদ ছাড়ার পর এবার ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদ পেলেন সন্দীপ ঘোষ। আর জি করের নতুন অধ্যক্ষ হলেন সুহৃতা পাল।    

এই ঘটনা থেকে প্রশ্ন উঠেছে ঢের! ছাত্র সংগঠন চেয়েছিল যাতে সন্দীপ ঘোষকে অপসারণ করা হয়। কিন্তু সেই দাবী মানল না রাজ্য সরকার। সন্দীপ ঘোষকে বদলি করা হল। তিনি কী এতটাই প্রভাবশালী যে তাঁকে ছাঁটাই করতে এত দ্বিধা সরকারের? ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অজয় রায়ের অবসরের আগেই কেন সন্দীপ ঘোষকে অধ্যক্ষ করা হল? এত কীসের তাড়া রাজ্যের? এমন নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।  

RELATED Articles