আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকেই পড়ুয়া চিকিৎসকরা প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। সিবিআই তদন্ত করছে এই ঘটনার। প্রতিদিনই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিচ্ছেন সন্দীপ ঘোষ। এবার তাঁর সম্পর্কে নানান তথ্য তুলে ধরলেন তাঁরই এককালের সহকর্মী তথা আর জি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি।
এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দেন আখতার আলি। জানান, আর জি করের পরিবেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আর জি করের মধ্যেই বাইরে থেকে মেয়ে নিয়ে এসে মচ্ছব চলত। আখতার আলির কথায়, “আরজি করে পরিবেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আর পরিবেশ খারাপ হওয়ারও ছিল। যদি জুনিয়র ডাক্তারকে বসিয়ে মদ খাওয়ানো হয়, জুনিয়র ডাক্তাররা যদি গেস্ট হাউজ়ে বাইরে থেকে মেয়ে নিয়ে আসে, তাহলে পরিবেশ কীভাবে ঠিক থাকবে”।
প্রসঙ্গত, এর আগে আর জি করে বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য পাচার থেকে শুরু করে আর্থিক দুর্নীতি, বেআইনি মৃতদেহ ব্যবহার এমন নানান অভিযোগ তুলে সন্দীপের ঘোষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন আখতার আলি। সন্দীপের বিরুদ্ধে ইডি তদন্তের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আর এবার সন্দীপ ঘোষের এক অন্য দিক তুলে ধরলেন তিনি।
আখতার আলির কথায়, “সন্দীপ ঘোষ আসার আগে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ায় ১ নম্বর মেডিক্যাল কলেজ ছিল। আমি পাঁচ জন প্রিন্সিপ্যাল ৬ জন মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট, ভাইস প্রিন্সিপ্যালের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু ওঁর মতো নোংরা লোক আমি দেখিনি। ওঁ ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকেই নোংরা রূপ দেখাতে শুরু করেন”।
তাঁর সংযোজন, “প্রথমে ছাত্রদের পেছনে লাগা, ছাত্রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, ফেল করানো, তোলাবাজি, একের পর এক পর্দাফাঁস হয়। আমি যে দুর্নীতিগুলো দেখেছিলাম, আমি আওয়াজ তুলি, বিভিন্ন দফতরে জানাই। আমি রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানকেও জানিয়েছিলাম”।
সন্দীপ ঘোষের জন্য সরকার নাকি নিয়মই বদলে ফেলেছিলেন? কতটা সত্যি একথা। আখতার আলি জানান, “আমি ১৬ বছর ওই মেডিক্যাল কলেজে দিবারাত্র থেকেছি। ওঁ কিছু ছাত্রকে জেন্ডার হ্যারাজমেন্টে ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন। ওঁ কতটা প্রভাবশালী, তার উদাহরণ দিই। ওঁকে যখন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়, তখন ওর ডিমোশন হয়, ওঁ তখন অধ্যাপক হন। প্রফেসর থেকে আবার যখন প্রিন্সিপ্যাল পোস্টে দেওয়া হয়, তখন নিয়ম হচ্ছে অ্যাজ় পার গ্যাজেট নোটিফিকেশন রিক্রুটমেন্ট রুলস সিলেকশন কমিটি হবে। আবার ইন্টারভিউ হবে, বিজ্ঞাপন হবে। ওঁর জন্য সরকার নিজের নিয়মই বদলে দিত”। আখতার আলির আশা, আর জি কাণ্ডের সমস্ত দুর্নীতির এবার সঠিক বিচার হবে।





