পঞ্চায়েত ভোটে রক্তগঙ্গা, আক্রান্ত সরকারি কর্মীরা, রাজীব সিনহার বিরুদ্ধে খু’নের মামলা করে আদালতে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

গতকাল, শনিবার ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচন। এক রক্তস্নাত পঞ্চায়েত ভোট দেখেছে বাংলা। দিকে দিকে খু’নো’খু’নি, বোমাবাজি, মারামারি, ভোট লুট, ছাপ্পা ভোট, দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব কোনও কিছুই বাদ যায়নি। এমন অরাজকতার কারণে আঙুল উঠেছে নির্বাচন কমিশনের দিকে। নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার বিরুদ্ধে এবার অনিচ্ছাকৃত খু’নের মামলা করতে চলেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

গতকাল, শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ নির্বাচন কমিশনের অফিসে যান সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আধিকারিকরা। ডেপুটেশন দেন তারা। এরপরই আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানান মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। এর পাশাপাশি ভোট হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতার পথে প্রতিবাদ মিছিলের কথাও ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, “ভোট হিংসার প্রতিবাদে আদালতে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সরাসরি এফআইআর হবে রাজীব সিনহা-সহ নির্বাচনী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। রবিবার শহরে প্রতিবাদ মিছিল হবে। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শহিদ মিনার পর্যন্ত”।

ভাস্করবাবুর দাবী, “আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ নির্বাচন কমিশনার। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের থেকেও বেশি সংখ্যায় সরকারি কর্মচারীরা আক্রান্ত হয়েছেন এবারের ভোটে”।

আগামী সপ্তাহে তথ‌্য প্রমান সংগ্রহ করে আদালতে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন ভাস্করবাবু। বকেয়া ডিএ আদায়-সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ‌্য সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। একাধিকবার এই মঞ্চের নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিনও তার ব‌্যতিক্রম হয়নি।

প্রসঙ্গত, হাইকোর্ট বারবার কমিশনকে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট করানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা প্রায় মেলেনি একাধিক বুথেই। ভোটের দিন রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন ১৫ জন। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও কেন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে যাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।

RELATED Articles