আজ বাদে কাল মাধ্যমিক পরীক্ষা(Madhyamik examination)। রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে বসছে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছে সবাই। কিন্তু এর মাঝেই আলিপুরদুয়ারের শ্যামাপ্রসাদ হাইস্কুলের ছাত্রী সানিয়া রায় গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নয়, এখন তার একমাত্র লড়াই মাথার উপর ছাদ ফিরে পাওয়ার।
রেলের জমিতে বসবাসকারী সানিয়া ও তার পরিবারের ঘরটি গত শুক্রবার উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়েছে। শুধু সানিয়া নয়, তার মতো আরও শতাধিক পরিবারের ঘর রেল কর্তৃপক্ষ বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই জমিতে বসবাস করে আসছিলেন তারা। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি রেলের খাস জমি। তাই কোনও নোটিশ ছাড়াই আচমকাই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন স্থানীয় বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। তিনি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সানিয়ার পরিবারের জন্য একটি ত্রিপল দিয়ে সাময়িকভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “৫০-৬০ বছর ধরে এখানে মানুষ বসবাস করছেন। মুখ্যমন্ত্রী গরিবদের জন্য আবাস যোজনায় সহায়তা দিয়েছেন। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করেই তাদের ঘর ভেঙে দিয়েছে। এতে শতাধিক পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে।”
রেলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ মানা হয়নি। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম অমরজিৎ গৌতম জানিয়েছেন, “রেলের জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ হয়েছিল। তাই তা সরাতে হয়েছে। তবে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” তবে বাস্তবে এখনও কোনও বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
আরও পড়ুনঃ এক ধাক্কায় পারদ পতন! প্রেমদিবসে ফিরবে শীতের আমেজ? কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর?
সানিয়ার মতো মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বইপত্র নষ্ট হয়ে গেছে, মাথার উপর ছাদ নেই, খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতদিন ধরে তাদের এখানে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, ভোটের সময় পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। অথচ মাধ্যমিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন এমন উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো, সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা এলাকায়।





