একের পর এক দুর্নীতিতে (corruption) নাম জড়িয়েছে শাসক দলের একাধিক নেতার। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা, গরু নানান ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে নাম জড়ানোয় আপাতত জেলবন্দি একাধিক নেতা-মন্ত্রীরা। এর জেরে রাজ্যের শাসক দল (TMC) যে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy)। তাঁর কথায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) দলের জন্য বিড়ম্বনা, আর কেউ নন।
দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত এই মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। অর্পিতার দু’টি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ৫০ কোটির বেশি টাকা ও প্রচুর সোনা-গয়না।
শুধু পার্থই নন, এই নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সিবিআইয়ের জালে আটক হন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। গ্রেফতার করা হয়েছে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক কুমার সাহা ও আরও বেশ কয়েকজনকে। গরু পাচার মামলায় সিবিআই গ্রেফতার করেছে বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে।
পার্থর গ্রেফতারির পরই তাঁর সঙ্গে স্মত সম্পর্ক ছিন্ন করে তৃণমূল। মন্ত্রিত্ব ও তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। তবে অনুব্রত বা মানিকের ক্ষেত্রে তেমনটা করতে দেখা যায়নি তৃণমূলকে। বরং, অনুব্রতকে সমর্থন করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পার্থ-অনুব্রতর ক্ষেত্রে দলের আলাদা মনোভাব কেন?
এই বিষয়ে এবার মুখ খুললেন দমদমের সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর কথায়, “পার্থ দলের জন্য বিড়ম্বনা, মানিক বা অনুব্রত নন। কারণ, পার্থর ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে নগদ প্রচুর টাকা দেখেছে মানুষ। যা মানিকদের ক্ষেত্রে হয়নি। তাঁদের বাড়ি থেকে নথি বাজেয়াপ্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু টাকা মেলেনি”। অনেক তৃণমূল নেতাই এই একই যুক্তি দেখিয়েছেন।
তবে এ নিয়েও বেশ কটাক্ষ করেছে বাম-বিজেপি। বামনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “টাকা দেখা যাক বা না যাক পুরোটাই দুর্নীতি”। এই একই কথা শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের গলাতেও।





