কিছুদিন আগেই নদিয়ার কৃষ্ণনগরে প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে কড়া বার্তা দিয়ে তোপ দাগেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এবার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
তাঁর মতে, মহুয়া মৈত্র আর বেশিদিন তৃণমূলে থাকবেন না। ভবিষ্যতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন। আর এমন মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নানান জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় মহুয়াকে তোপ দেগেছিলেন মমতা। আর এরপরই সৌমিত্রের এমন মন্তব্য যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।
সংবাদসংস্থা এএনআই–কে সৌমিত্র খাঁ বলেন, “মহুয়া মৈত্র তৃণমূল কংগ্রেসে বেশিদিন থাকতে পারবেন না। অর্পিতাও ভালো সাংসদ ছিলেন। তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হল। কারণ মমতা সবাইকে ব্যবহার করেন। দু’বছর পর মহুয়া টিকিট পাবেন না। তাই দু’বছর পর বিজেপিতে যোগ দেবেন। তৃণমূল কংগ্রেসে একমাত্র মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদই ‘চিরস্থায়ী’। মহুয়া ভাল কাজ করছেন আর অভিষেককে ছাপিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাঁকে এখন পছন্দ নয়। আমরা অপেক্ষা করছি দিনটার জন্য”।
বিজেপি সাংসদ মহুয়াকে নিয়ে একথা বললেও, মহুয়া মৈত্র কিন্তু এখন তৃণমূলের পক্ষ থেকে গোয়ার সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গৃহলক্ষ্মী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। সেখানে তৃণমূল ক্ষমতায় এলে সে রাজ্যের মহিলাদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে ৫০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
তবে সৌমিত্র বলেন, “মহুয়া ভাল কথা বলেন। তাঁকে বিজেপিতে যোগ দিতেই হবে। আমরা সেই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছি”। তবে মহুয়া মৈত্র এই নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
উল্লেখ্য, প্রশাসনিক বৈঠকে মহুয়ার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মহুয়া এখানে আমি একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই। কে কার পক্ষে–বিপক্ষে দেখার আমার দরকার নেই। আমি সাজিয়ে গুছিয়ে কিছু লোক পাঠিয়ে ইউটিউবে অথবা ডিজিটালে দিয়ে দিলাম, এই রাজনীতি একদিন চলতে পারে চিরদিন নয়। একই লোক চিরদিন এক জায়গায় থাকবে এটাও মেনে নেওয়াটা ঠিক নয়। যখন ভোট হবে পার্টি ঠিক করবে কে লড়বে কে না। এখানে মতপার্থক্যের কোনও জায়গা নেই। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এটা আমি বলে গেলাম”। এরপরই শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “এই জন্যই আমি দল ছেড়েছি”।





