‘সবাইকে মানিক ভট্টাচার্য করে দেব, লুকিয়ে-পালিয়ে বেড়াতে হবে’, তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি সৌমিত্রর, পাল্টা তোপ কুণালেরও

নানান দুর্নীতিতে জর্জরিত তৃণমূল (TMC)। একাধিক নেতা-মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে নানান দুর্নীতিতে (corruption)। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলকে দাগতে কোনও সুযোগ ছাড়ছে না বিরোধী দল। এবার পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিদকের উদ্দেশ্য করে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ (Saumitra Khan) বলেন, “সবাইকে মানিক ভট্টাচার্য (Manik Bhattacharya) করে দেব”। তাঁর এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে তোপ দাগলেন তৃণমূল মুখপত্র কুণাল ঘোষও (Kunal Ghosh)।

গতকাল, রবিবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ।  সেখানেই তৃণমূলকে বেলাগাম আক্রমণ শানান তিনি। দুর্নীতি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকেও তোপ দাগেন বিজেপি নেতা। বলেন, “কিছু কিছু থানার ওসি বালি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। আমি ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছি। জেলা প্রশাসনের যারা বালি পাচারে বা কোনও কেলেঙ্কারিতে যুক্ত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

সৌমিত্র খাঁ আরও বলেন, “সবাইকে মানিক ভট্টাচার্য করে দেব। মানিকবাবুকে যেভাবে লুকিয়ে বেড়াতে হচ্ছে, দুর্নীতিতে যুক্ত সবাইকে সেভাবে পালাতে হবে”। যদিও সৌমিত্র খাঁয়ের এই মন্তব্যে একবারেই আমল দিতে চান না তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “পাগল-ছাগল অনেক কিছু বলে। গুরুত্ব দেওয়ার কারণ নেই”।

বলে রাখি, টেট নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখন সিবিআইয়ের নজরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার তলব করেছে ইডি। এর মধ্যে তিনি একবার হাজিরা দিয়েছেন। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তির নথি হলফনামা আকারে জমা দিতে বলে হাইকোর্ট। তবে সেই বিষয়ে কোনও গুরুত্ব দেন নি মানিকবাবু। তাঁর সঙ্গে ফোনেও কোনওভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।

সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলে। এরপরই মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করে সিবিআই। তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই দেশের নানান বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে গত শুক্রবার তাঁকে তাঁর যাদবপুরের বাড়ির বারান্দায় দেখা যায়।

RELATED Articles