রাজ্য

ভাত-ডাল নয়, মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে পড়ল পিঠেপুলি-নলেন গুড়ের পায়েস, শিক্ষকদের উদ্যোগে খুশির হাসি পড়ুয়াদের মুখে

স্কুলের পড়ুয়ার দল সব লাইন দিয়ে বসে রয়েছে। জোরকদমে চলছে মিড ডে মিলের খাওয়াদাওয়া। রাজ্যের সরকারি স্কুলে এমন দৃশ্য এমন কিছু নতুন নয়। মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে ভাত, ডাল, তরকারি, ডিম এসবই দেখা গিয়েছে এর আগে। তবে এবার যদি তাদের পাতে দেখা মেলে পিঠে পুলির, তাহলে কেমন হবে ব্যাপারটা?

শুনতে অবাক লাগলেও, এমনই দৃশ্য দেখা গেল হুগলির গোঘাট ১ নম্বর ব্লকের চাতরা হাই স্কুলে। সে স্কুলে পড়ুয়াদের মিড ডে মিলে ভাত-ডালের বদলে দেওয়া হল পিঠে পুলি, পায়েস এসব। আর ভাতের পরিবর্তে পিঠে পুলি পেয়ে বেশ খুশি পড়ুয়ারাও।

স্কুলে ভাতের বদলে দেওয়া হচ্ছে পিঠে পুলি। এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয় গোটা এলাকায়। এদিন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ মিড ডে মিলের কর্মীরা প্রায় তিনশোর বেশি ছাত্র-ছাত্রীদের পাতে নানান স্বাদের পিঠেপুলি তুলে দিলেন। আর এর সঙ্গে ছিল নলেন গুড়ের পায়েস।

ক্লাস পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর পর্যন্ত সকল ছাত্র-ছাত্রীদের পিঠেপুলি ও পায়েস খাওয়ানোর উদ্যোগ নিল স্কুল। পিঠেপুলির মধ্যেও আবার ছিল নানা বৈচিত্র্য। কোনও পিঠেতে ছিল নারকেলের পুর, কোনওটায় মুগ ডাল, তো আবার কোনওটায় সবজির পুর। মিলল ক্ষীরের স্বাদও। স্কুলের এই অভিনব উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত ছাত্রছাত্রীরাও। 

স্কুলের শিক্ষকরা জানান এক সপ্তাহ ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই পিঠে পুলি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। পড়ুয়াদের খাওয়াতে পেরে তারাও যারপরনাই খুশি। কারোর কথায় তো আবার, এই প্রথম আরামবাগের কোনও স্কুলে এমন পিঠে পুলি-পায়েস খাওয়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হল।

এই বিষয়ে চাতরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “সরকার তো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দেওয়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছে। তাই আমরা ভাবলাম পড়ুয়াদের যদি পিঠে খাওয়ানো যায় তাহলে কেমন হয়। নানা স্বাদের পিঠে ছিল আজ। সঙ্গে পায়েসও ছিল। এই ধরনের খাবার দেওয়ায় পড়ুয়ারাও খুব খুশি। আমরাও আনন্দিত। আমি বিডিও ও এসআই সাহেবকেও জানিয়েছি। তাঁরাও খুব উৎসাহিত করেছেন। আমাদের ভালো লাগছে”।

Back to top button
%d bloggers like this: