ট্রেন বাতিলের জেরে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে দিন দিন। ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকায় রেল যাত্রীদের ভোগান্তি যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। পূর্ব রেলের বিভিন্ন শাখায় সম্প্রতি পরিকাঠামোগত কাজের জন্য বারবার ট্রেন বাতিল হচ্ছে। এর ফলে নিয়মিত যাত্রীরা যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনই উৎসবের মরশুমে যাত্রীদের যাতায়াতও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। কাজের প্রয়োজন হলেও সময়ের অভাবে অনেক যাত্রী বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। বিশেষ করে কর্মস্থলে যাতায়াতকারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার সময় যাত্রীদের কোনো পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। অটো বা বাসের মতো গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও চাপ পড়ছে। সঠিকভাবে আগে থেকে পরিকল্পনার অভাবে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে উৎসব বা বইমেলার মতো বড় অনুষ্ঠানের সময়ে এই ধরণের পরিষেবা বন্ধ নিয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০৮টি ট্রেন বাতিল
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা ও শিয়ালদহ–বারুইপুর শাখায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোর পর্যন্ত ১০৮টি ট্রেন বাতিল থাকবে। কাঁকুড়গাছি এবং বালিগঞ্জে ইন্টারলকিংয়ের কাজের জন্য এই ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বজবজ এবং বারুইপুর শাখার যাত্রীরা সমস্যায় পড়বেন। তবে লক্ষীকান্তপুর লাইনের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি চক্ররেলের পরিষেবাও স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে রেল।
সরস্বতী পুজো ও বইমেলায় যাত্রীরা বিপাকে
রেল জানিয়েছে, এই ৫২ ঘণ্টায় ১ ফেব্রুয়ারি ৫৯টি এবং ২ ফেব্রুয়ারি ৪৯টি ট্রেন বাতিল থাকবে। সরস্বতী পুজো ও চলমান বইমেলার সময়ে এই ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত যাত্রীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় প্রতিদিন প্রায় ৩৩০টির বেশি ট্রেন চলাচল করে। তার মধ্যে এত সংখ্যক ট্রেন বাতিল হওয়ায় অতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা রয়েছে। রেল অবশ্য জানিয়েছে, কিছু স্পেশাল ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বারাসত থেকে দমদম, শিয়ালদহ থেকে নৈহাটি ও বজবজ থেকে নিউ আলিপুর লাইনে বিশেষ ট্রেন চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বাজেটে বড় ঘোষণা! ইপিএফ পেনশন বৃদ্ধি ও ডিএ সুবিধা!
সাম্প্রতিক ট্রেন বাতিলের ধারা অব্যাহত
কয়েকদিন আগেই ডানকুনি লাইনে ১০০ ঘণ্টার জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। এক সপ্তাহ পেরোতেই ফের একাধিক ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলের আধুনিকীকরণ কাজের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি বারবার তৈরি হওয়ায় যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে নিয়মিত যাত্রীদের দাবি, রেল কর্তৃপক্ষকে ট্রেন পরিষেবা বন্ধের সময় বিকল্প ব্যবস্থা এবং যথাযথ পরিকল্পনা করতে হবে।






