কিছুদিন আগে মেদিনীপুরের খড়গপুরের এক স্কুলে এমন ঘটনা ঘটেছিল। এবার সেই একই ঘটনা ঘটল করণদিঘির লাহুতারা কামাদ প্রাথমিক স্কুলে। ক্লাস চলাকালীন ভেঙে পড়ে স্কুলের ছাদের চাঙড়। এর জেরে গুরুতর আহত হয় ১৪ জন পড়ুয়া। তাদের মধ্যে ৫ জন ছাত্রী। কয়েকজনের মাথা ফেটেছে। হাসপাতালে ভর্তি তারা। এই দুর্ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন অভিভাবকরা।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার দুপুর নাগাদ লাহুতারা কামাদ প্রাথমিক স্কুলে চলছিল ক্লাস। আচমকাই ভেঙে পড়ে ছাদের চাঙড় ৭। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মোট ১৪ জন পড়ুয়া আহত হন। কয়েকজনের মাথা ফেটে গিয়েছে।
এদিন প্রধান শিক্ষক মতিয়া মণ্ডল স্কুলে আসেননি। ফলে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে সমস্যা হয়। খবর পেয়েই স্কুলে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারাই খুদে পড়ুয়াদের উদ্ধার করে করণদিঘি ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় পড়ুয়াদের।
কী জানাচ্ছেন স্থানীয়রা?
স্থানীয়দের দাবী, ২০ বছরের মতো হয়েছে এই স্কুলভবনের। কিন্তু এরই মধ্যে জায়গায় জায়গায় ফাটল ধরতে শুরু করে। অভিভাবক, এলাকার লোকজন এই বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েওছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তা কানে তোলেননি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দার। তাঁদের ভয় ছিল, এমন কিছু ঘটতে পারে যে কোনও দিন।

এক বাসিন্দার কথায়, “অনেকদিন ধরেই এই অবস্থা। যিনি দায়িত্বে বারবার বলা হয়েছে তাঁকে। উনিও বলতেন করে দেবেন। কিন্তু কী করেছেন তা তো দেখাই গেল। আজ দুপুর সাড়ে ১২-১টা নাগাদ ঘটনা ঘটে। ক্লাস চলছিল। হঠাৎই ছাদ থেকে অংশ খসে পড়ে। বড় বিপদ হতে পারে। যে জায়গাটা ভেঙেছে, ঠিক পাশেই ফ্যানটা ঘুরছিল। ওই জায়গাটা ভাঙলে ফ্যানটাও পড়ুয়াদের উপর ভেঙে পড়ত। কী হতো ভাবতেই পারছি না”।
কী জানাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মতিয়া মণ্ডল বলেন, “আমার বিশেষ কাজ ছিল। তাই স্কুলে যেতে পারিনি আজ। কিন্তু যা ঘটেছে, সব শুনেছি। রায়গঞ্জে হাসপাতালে আমি যাচ্ছি। সকলের যাতে ঠিকমতো চিকিৎসা হয়, তা দেখব”।





