ছুটির দিনে একটু নিরিবিলতে সময় কাটাতে এখন অনেকেই মন্দারমণিতে বেড়াতে যান। সেই মন্দারমণিতেই চলছে মধুচক্র। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করলেই মিলবে সুন্দরী রমণীদের ছবি। এরপর টাকাপয়সার রফা হলেই সেই শ’য্যা’স’ঙ্গি’নী পৌঁছে যাবেন হোটেলের দোরগোড়ায়। এভাবেই দিঘা, মন্দারমণির নানান হোটেলে রমরমিয়ে চলছে মধুচক্র।
সামনেই বড়দিন। এইসময় দিঘা-মন্দারমনিতে উপচে পোড়া ভিড় দেখা যায়। হোটেলের ঘর পাওয়াই মুশকিল হয়ে যায়। এই সময়ে পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় হোটেল মালিকদের। আর এই উৎসবের মরশুমেই দে’হ’ব্য’ব’সার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে সৈকত শহরগুলি, এমনটাই খবর পুলিশ সূত্রে।
পুলিশের দাবী, মন্দারমণির বেশ কিছু হোটেলে মধুচক্রের আসর বসে বলে জানা গিয়েছে। একটি ফোনের মাধ্যমেই পর্যটকদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয় দে’হ’ব্য’ব’সা’য়ীর পাণ্ডাদের সঙ্গে। এরপরই হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয় লিঙ্ক। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই মেলে সুন্দরী মহিলাদের ছবি। টাকাপয়সার কথা বলে ডিল ফাইনাল করলেই সুন্দরী সেই রমণী পৌঁছে যান হোটেল রুমে। হোটেল কর্তৃপক্ষ এর থেকে কমিশন পায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই কাজে যুক্ত রয়েছেন মূলত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, বর্ধমান, ও মেদিনীপুরের মহিলারা। এই ঘটনায় তদন্তে নেমে দুই হোটেল মালিক-সহ ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে সমীর প্রধান ও সোমনাথ প্রধান নামে দুজন হল হোটেল মালিক। আর বাকিরা হল মির্জা সাত্তার বেগ, কার্তিক জানা, শুভঙ্কর গিরি, শুভময় পণ্ডা, তারক মাঝি। মির্জা সাত্তার বেগ সুবেড়িয়ার বাসিন্দা। কার্তিক জুনপুটের বাসিন্দা। শুভঙ্কর কাঁথির মহিষাগোটের বাসিন্দা আর মহিষামুণ্ডার বাসিন্দা হল শুভময়। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে থাকে তারক মাঝি। ১৬ জন যুবতীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবী, শুধুমাত্র একটি হোটেল নয়, মন্দারমনিতে এমন অনেক হোটেলের খোঁজ পাওয়া মিলেছে, যেখানে নানা জেলা থেকে মহিলাদের ধরে এনে ম’ধু’চ’ক্রের কারবার করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এদের মধ্যে কারোর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, কেউ ক্যানিং, বর্ধমানে। এমনকী দার্জিলিং থেকেও কিছু মেয়েকে আনা হয়েছে বলে খবর।





