খেলা ঘুরিয়ে দিলেন শাহজাহান! ‘চাপ দিয়ে মিথ্যে বয়ান রেকর্ড, মা’দ’ক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি’, ইডির বিরুদ্ধে আদালতে চিঠি শাহজাহানের

Shah Jahan wrote letter against ED: শাহজাহান মামলায় এবার নতুন মোড়। এতদিন পর্যন্ত চুপচাপই ছিলেন তিনি। আচমকাই আদালতে চিঠি দিলেন শেখ শাহজাহান (Shah Jahan wrote letter against ED)। সেই চিঠিতে দাবী করা হয়েছে, ইডি নাকি তাঁকে চাপ দিয়ে মিথ্যে বয়ান রেকর্ড করিয়েছে। এমনকি, বয়ান না দিলে মিথ্যে মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সিবিআই হেফাজত শেষে ইডির হেফাজতে ছিলেন শেখ শাহজাহান। আজ, শনিবার সেই হেফাজত শেষ হয় তাঁর। এদিন শাহজাহানকে আদালতে তোলা হয়। এজলাসে সওয়াল-জবাব পর্বে শাহজাহানের আইনজীবী আদালতে একটি চিঠি পেশ করেন (Shah Jahan wrote letter against ED)। সেই চিঠি অভিযুক্ত শাহজাহান লিখেছেন বলে দাবী করেন তিনি। ভরা এজলাসেই পড়া হয় সেই চিঠি।

কী লেখা ছিল সেই চিঠিতে (Shah Jahan wrote letter against ED)?

জানা গিয়েছে, সেই চিঠিতে লেখা ছিল, “ইডি হেফাজতে ১/০৪/২৪ থেকে ১৩/৪/২৪ পর্যন্ত ইডি হেফাজতে থাকাকালীন আমাকে দিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড করানো হয়েছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে। বয়ান না দিলে আমি, আমার সহোদর এবং আত্মীয়দের মা’দ’ক মামলায়, জড়িয়ে দেওয়া হবে”। এমনকি, শাহজাহান এও আর্জি জানিয়েছেন যাতে তাঁর বয়ান প্রত্যাহার করা হয় (Shah Jahan wrote letter against ED)।

এরপরই গোটা এজলাসে শোরগোল পড়ে যায়। ইডি আধিকারিকরা জানতে চান শাহজাহান নিজে এই চিঠি লিখেছেন কী না(Shah Jahan wrote letter against ED)। এই চিঠির বিরোধিতা করেন ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর দাবী ছিল, এই চিঠি শাহজাহানের লেখা নয়। চিঠির বয়ান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এই চিঠি যাতে আদালতে গৃহীত না হয়, তার জন্য তিনি আবেদন জানান। এই চিঠি গ্রহণ করা হল শাহজাহানের বয়ানের কোনও গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না বলে জানান ইডির আইনজীবী (Shah Jahan wrote letter against ED)। এত সব কাণ্ডের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এজলাস কক্ষ। চিঠি আপাতত গৃহীত হয়নি। আগামী ১৫ এপ্রিল, সোমবার এই বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানায় আদালত। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ইডির হেফাজতেই থাকবেন শাহজাহান, এমনটাই নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে শাহজাহানের বাড়ি তল্লাশিতে গেলে হামলার মুখে পড়তে হয় ইডিকে। সেই থেকে পলাতক থাকার পর ৫৫ দিন পর গ্রেফতার করা হয় শাহজাহানকে। রাজ্য পুলিশের থেকে সিবিআইয়ের হেফাজতে নেওয়া হয় তাঁকে। সিবিআই হেফাজত শেষে শাহজাহানকে নিজেদের হেফাজতে নেয় ইডি। সম্প্রতি সন্দেশখালি মামলার তদন্তভার গিয়েছে সিবিআইয়ের উপর। একথা শুনে শাহজাহান বলেছিলেন, “খুব ভালো হবে। ইডি তদন্ত করলে আরও ভালো”। কিন্তু এদিন আবার আদালতে পেশ হল শাহজাহানের এমন চিঠি (Shah Jahan wrote letter against ED)। এরপর এই মামলা কোনদিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। 

আরও অন্যান্য খবর