প্রতি বছরই ভাইফোঁটার (bhai phota) দিন ‘ভাই’দের নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ করেন তিনি। দলের সহকর্মীদের ফোঁটা দেন। নিজের হাতে তুলে দেন উপহারও। এবারও এর অন্যথা হল না। তবে এই বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির ভাইফোঁটা যেন একটু অন্যরকমই হল। এদিন উপস্থিত ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় (Shovan Chatterjee)। সঙ্গে ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Baishakhi Banerjee)। আর ছিলেন মুকুল রায় (Mukul Roy)। ভাইফোঁটার দিন কী তবে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হল?
২০১৯ সালে শেষ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে জমজমাট করে ভাইফোঁটার আয়োজন হয়েছিল। এরপর দু’বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে তা সেভাবে হয়নি। তবে এই বছর বেশ জনসমাগম কালীঘাটের বাড়িতে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এটাকে পারিবারিক অনুষ্ঠানই আখ্যা দিয়েছেন। এদিন সাদা পাঞ্জাবি পরে ‘দিদি’র হাত থেকে ফোঁটা নিতে যান শোভন।
এদিন শোভন সংবাদমাধ্যমে মুখ না খুললেও, বৈশাখী এদিন বলেন, “শোভন ভাইফোঁটা পেল, আমি আশীর্বাদ পেলাম। মমতার মমত্ব এত বেশি, উনি সবাইকে খাওয়াচ্ছেন। ওঁদের মধ্যে একটা টান সবসময় রয়েছে। ভাইবোনের এই সম্পর্ক ছিলই, মাঝে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। অভিমানের মেঘ কেটে গিয়েছে। এটাই সবচেয়ে ভালো”।
তবে এই প্রথমবার নয়, গত বছরও শোভন-বৈশাখী একসঙ্গে গিয়েছিলেন ভাইফোঁটার দিন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে। তখন থেকেই উভয় পক্ষের সম্পর্কের উন্নতি হতে শুরু করে। এই বছর ফের নিজের প্রিয় ‘কানন’কে ফোঁটা দিলেন মমতা।
তবে এই বছর কালীঘাটের ওই বাড়িতে যার উপস্থিতি সবথেকে বেশি নজর কাড়ল, তিনি হলেন মুকুল রায়। একুশের নির্বাচনের পর তিনি যখন তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করলেন, সকলেই ভেবেছিলেন হয়ত তাঁকে কোনও গুরু দায়িত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। কারণ মুকুল বেশ অসুস্থ থাকায় দলের কাজ করতে পারেন নি তিনি।
দশমীর পরও একদিন কালীঘাটে গিয়ে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মুকুল। ৬ বছর পর ভাইফোঁটায় গেলেন তিনি। শেষ ২০১৬ সালে ভাইফোঁটায় গিয়েছিলেন তিনি। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মধ্যেই পালিত হয়। এবার মুকুল রায় সেখানে উপস্থিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে, মুকুল ফের মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঢুকেছেন। তবে কী পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোনও বড়সড় দায়িত্ব পাবেন তিনি, সেই জল্পনাও যে তৈরি হয়নি, এমনটা নয়।





