ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর, হাওড়া রুটে চলাচল করা হাজারো যাত্রীর কাছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা এক বিভীষিকার নাম হয়ে উঠল এই জায়গা। সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। অনেকে প্রথমে ভেবেছিলেন ভূমিকম্প! কিন্তু পরে বোঝা যায়, সেটি ছিল এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার আওয়াজ—যেখানে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন গিয়ে ধাক্কা মারে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির মাথায়। মুহূর্তের মধ্যেই দুমড়ে মুচড়ে যায় কামরা।
দুর্ঘটনাটি ঘটে বিলাসপুর-কাটনি সেকশনের লালখদান স্টেশনের কাছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটে নাগাদ একটি লোকাল মেমু ট্রেন গতি হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ধাক্কার শক্তিতে ট্রেনের একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। প্রথমে মনে করা হয়েছিল শুধুই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা যখন কামরার ভিতর প্রবেশ করেন, তখনই স্পষ্ট হয়—ঘটনার ভয়াবহতা অনেক গভীর।
ঘটনার পরই রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তড়িঘড়ি শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। স্থানীয় বাসিন্দারাও হাতে হাত মিলিয়ে আহতদের বাইরে বের করে আনতে সাহায্য করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে নামানো হয় রেলওয়ের বিশেষ রেসকিউ টিম ও চিকিৎসক দল। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুনঃ Shani Blessed 2026: বছর শুরতেই বদলে যাবে ভাগ্য! ৩ রাশির জীবনে আসছে বিরাট উন্নতি
এই ভয়াবহ সংঘর্ষের জেরে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে ওই রুটের ট্রেন চলাচল। বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, আবার কিছু ট্রেন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্য পথে। সংঘর্ষের ফলে ওভারহেড তার ও সিগন্যাল সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিষেবা স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে, পাশাপাশি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে যাতে পরিবারের লোকেরা যোগাযোগ রাখতে পারেন।
রেল আধিকারিকদের একাংশের দাবি, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা বা সংকেত বিভ্রাটের কারণেই এই দুর্ঘটনা। তবে সঠিক কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। রেল মন্ত্রক থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে ফের উঠছে প্রশ্ন—ভারতের ব্যস্ততম রেলপথগুলির একটিতে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল? প্রশাসন বলছে, দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





