শিলিগুড়ির রহস্যমৃত্যু আপনার হাড় হিম করে দেবে। বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ি থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল। ওই ওয়ার্ডের সাফাইকর্মীরা বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে এলো টিনের চালের উপর থেকে এক জোড়া মাথার খুলি, সঙ্গে কয়েকটি হাড়ও! বাড়ির ভিতর ঢুকতে দেখা গেল চারিদিকে ছড়িয়ে আবর্জনা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বুধবার সকালে চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়ির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লি এলাকায়।
পুলিশ মারফৎ খবর সুভাষপল্লির দীনবন্ধু মিত্র সরণির ওই বাড়ির বর্তমান মালিকের নাম ভিক্টর চক্রবর্তী। প্রায় বছর পাঁচেক আগে ওই যুবকের বাবা মারা গেছেন। মৃত্যু হয়েছে মায়েরও। বিবাহিত ভিক্টরের স্ত্রী ছিলেন পেশায় রেলকর্মী। তবে বাড়িতে একাই থাকতেন ভিক্টর। খুব একটা মিশতেন না কারও সঙ্গে। আচরণও ছিল খুব অদ্ভুত।
কয়েকদিন ধরে হঠাৎই তাঁর বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ পেতে শুরু করেন প্রতিবেশীরা। ক্রমশ বাড়তে থাকে গন্ধের তীব্রতা। সেই কারণেই বুধবার ভিক্টরের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর নিখিল সাহানির নেতৃত্বে। তখনই মেলে মাথার খুলি ও হাড়গোড়। কিন্তু কোথা থেকে এল ওই খুলি? রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি নয় তো? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে উদ্ধার হওয়া হাড় ও খুলিগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, জানিয়েছেন শিলিগুড়ি পুলিশের এসিপি স্বপন সরকার।
স্থানীয়দের কথায়, ভিক্টরের আচরণে অসংগতি ছিল। দেখলেই মনে হয় মানসিক রোগগ্রস্ত। বাইরে থেকে আবর্জনা নিয়ে এসে ঘরে জমাতেন ভিক্টর। সূত্রের খবর, ঘটনার রহস্যভেদ করার জন্য ভিক্টরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। কিন্তু তাঁর অসংলগ্ন কথাবার্তার কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তদন্তকারীদের। তবে শুধু বাতিকের কারণেই ওই ব্যক্তি আবর্জনা জমাতেন? নাকি এর পিছনে ছিল অন্য কোনও রহস্য? তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।





