করোনা যেমন একদিকে আমাদের অনেক আমানবিক দৃশ্যের মুখোমুখি এনেছে তেমনি কিছু মানবিক মুখকেও সামনে এনেছে। সুরাটের এক ব্যবসায়ী কিছুদিন আগে করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালের বিল দেখে তাঁর চক্ষুচড়কগাছ। তার মাথায় তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। তিনি একজন ব্যবসায়ী হয়েও যদি বিল দেখে এমন ভাবপ্রকাশ করেন তাহলে এই দেশের গরিব মানুষগুলো কোথায় যাবে? সরকারি হাসপাতালে বেড নেই আর বেসরকারিতে আকাশ ছোঁয়া বিল, কোথায় যাবে মানুষ!
অনেক ভাবনা চিন্তা করে কোনো উপায় না পেয়ে নিজেই করোনার স্বাস্থ্যকেন্দ্র বানিয়ে ফেললেন ব্যবসায়ী কাদের শেখ। নিজের ৩০ হাজার স্কোয়ার ফুটের অফিসকে রূপান্তরিত করলেন করোনা ওয়ার্ডে। এই বিষয়ে কাদের জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসায় প্রচুর খরচ। অত খরচ গরিব মানুষগুলো করতে পারবে না। তাই তিনি নিজেই গরিব মানুষগুলোর মুশকিল আসান করতে এগিয়ে এলেন।
বেসরকারি হাসপাতালে ২০ দিন চিকিৎসাধীন থেকে তিনি করোনাকে হারিয়েছেন। কিন্তু এই দেশে এমন অনেক মানুষই আছেন যারা সেই সুযোগও পেতে পারেন না অর্থাভাবে। তাই যাতে তাঁর মতো আরও অনেকেই সেই সুযোগ পান সেই আশাতেই এগিয়ে এলেন তিনি। নিজ খরচে নিজের অফিসে আনলেন হাসপাতালের বিছানা ও বেড কভার। এমনকি বৈদ্যুতিক বিলের খরচও তিনিই মেটাবেন। তাঁর এই সুউদ্যোগে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সরকারও। সরকারের তরফে স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনা চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। তাঁর এখন লক্ষ্য একটাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষই যেন চিকিৎসাটুকু পান।
দেশে এখন করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা ১৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি ৩৪ হাজারের অধিক মারা গেছেন। এর মধ্যে অনেক মানুষ অর্থের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং সরকারি হাসপাতালে বিছানা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে কাদের শেখের মতো মানুষের খুবই প্রয়োজন সমাজের।





