Harassment: বাংলা নাট্য জগত বা ইন্ডাস্ট্রির অন্তরে হেনস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রীরা। মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে হেনস্থার দায় যায় বড় শিল্পীদের উপর। এসব ঘটনা নিয়েই চর্চা তুঙ্গে ওঠে। এবার এই প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও সোহিনী সরকার (Sohini Sarkar) নিজেদের মতামত দিলেন। অভিনেতার মতে, “নাটকের ক্ষেত্রে গিল্ড বা ফোরাম নেই। ফলে সংগঠন তৈরি করে নির্দিষ্ট নিয়মাবলি অনুসরণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করার সময় এসে গিয়েছে।” অনির্বাণ নিজে প্রত্যক্ষদর্শী না হলেও বিভিন্ন হেনস্থার (Harassment) কথা শুনেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তার আগে বা তার সময়কালে এসব নিয়ে অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট সুযোগ ছিল না। বর্তমানে এই সংগঠনের মাধ্যমে শিল্পীদের কিছুটা হলেও সূরা হামি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোহিনী সরকারের (Sohini Sarkar) মতে আগের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা বদল ঘটেছে। বর্তমানে চিকিৎসা কেন্দ্র মহিলা রোগীর সঙ্গে পরিসেবিকা থাকেন। শিল্প মাধ্যমে বিষয়টা আলাদা। পোশাক শিল্পী বা রূপটানশিল্পীকে কাজের জন্যই শরীর ছুঁতে হয়। সেই ছোঁয়াতে খারাপ (Harassment) কিছু থাকেনা। এমনকি শুটিংয়ের সময় ক্যামেরার পিছনে অধিকাংশ পুরুষ কর্মী থাকেন, স্পর্শকাতর দৃশ্যে অভিনয়ের সময় বিশ্বাস তৈরি হয় যে কে কোন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তা দেখছে।
অভিনেত্রী নিজেও খারাপ অভিজ্ঞতার (Harassment) মুখোমুখি হয়েছেন। এই প্রসঙ্গেই সেদিন মুখ খুললেন সোহিনী (Sohini Sarkar)। তিনি বলেন, “নিশ্চয় অন্যায় হয়েছে, কিন্তু আমি যদি সেই ঘটনাগুলিকেই জীবনের এক মাত্র সত্য হিসাবে ধরে বসে থাকি, তা হলে চলবে না। আসলে আমাদের মেয়েদের মন নরম তো, তাই খুব সহজেই বিষিয়ে দেওয়া হয়। মনের ভিতরে চলতে থাকা অস্থিরতা, মানসিক কষ্টের দায়ভার যে কোন সংবিধান নেবে, সেটা বলতে পারব না আমি।”
হেনস্থা (Harassment) যে শুধু বিনোদন জগতেই হয়, এ কথা মনে করেন না সোহিনী (Sohini Sarkar)। নিজের বাড়িতেই হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রী (Sohini Sarkar) জানান, “আমার পাশের ফ্ল্যাটে এক ইলেকট্রিশিয়ান এসেছিল। আমি ওখানে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে কিছু একটা বলছিলাম। হঠাৎ কেউ একজন আমার পিছনে চিমটি কেটে চলে গেল! ভাবুন এক বার, আমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটল আমার জীবনে!” ওই ব্যক্তিকে ডেকে যে থাপ্পর মারবেন সেই সময়টুকু তিনি পাননি। এই ঘটনাটি উপলব্ধি করতে দেরি করে ফেলেছিলেন অভিনেত্রী। তুমি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। ঘটনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা। এসকল ঘটনায় অভিযুক্তদের সমাজের যে কোনও ক্ষেত্র থেকে বিতাড়িত করা উচিত, বলে মনে করেন সোহিনী(Sohini Sarkar)।
এসব সমস্যার (Harassment) সমাধান করা দরকার। কিন্তু কোথায় এর সমাধান রয়েছে তা জানেন না অধিকাংশ মানুষ। অভিনেত্রী (Sohini Sarkar) বলেন, “আমি এমন এক জন পুরুষকে জানি, যাঁর বিরুদ্ধে ‘মিটু’র মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনাও ঘটে। কিন্তু তাই বলে কি ‘মিটু’ আন্দোলন থামিয়ে দিলে চলবে!” অভিনেত্রী আরও বললেন, “আমরাই প্রথম প্রজন্ম, যারা সমাজমাধ্যম ব্যবহার করছে, ‘মিটু’ আন্দোলন করছে, প্রকাশ্যে নিজেদের বক্তব্য পেশ করছে। আমরাও নতুন শিখছি, ফলে কোন দিকে এগিয়ে গেলে সঠিক পথ মিলবে, সেই বিষয়ে আমরাও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারি না।”





