আর জি করের ঘটনার পরও কোনও হেলদোল নেই, সরকারি হাসপাতালের ভিতরেই চলছে মদের আসর, পুলিশ দেখেও চুপ

আর জি করের ঘটনায় সরব গোটা রাজ্য-সহ দেশ। মাঝরাতে মদ্যপ অবস্থায় হাসপাতালে ঢুকে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়। সেই ঘটনার পরও এখনও চোখ খোলে নি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের ভিতরেই চলছে মদের আসর। ধরা পড়তেই অদ্ভুত সাফাই অভিযুক্তের।   

ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজে। এই মেডিক্যাল কলেজের আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশেই একটি বেসরকারি সংস্থার তৈরি করা শৌচাগার রয়েছে। সেই সংস্থার তরফেই দীর্ঘদিন ধরে এই শৌচাগারটি পরিচালনা করা হয়। গতকাল, মঙ্গলবার রাতে সেই শৌচাগারের ভিতরে উঁকি দিতেই দেখা যায়, সেখানে বাংলা মদের আসর বসেছে। বেসরকারি সংস্থার কর্মী নারায়ণ প্রামাণিক ও আরও এক যুবক রয়েছেন সেই আসরে।

জানা গিয়েছে, প্রায় দশ-বারো বছর আগে ওই বেসরকারি এই শৌচালয় তৈরি করে। হাসপাতালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এই বেসরকারি সংস্থা। রোগীর পরিবার ও আত্মীয়দের ব্যবহারের জন্যই তৈরি করা হয় এই শৌচাগার। পুরুষ ও মহিলা উভয়ই ব্যবহার করেন সেটি। এবার সেই শৌচাগারেই বেসরকারি সেই সংস্থার স্বাস্থ্য কর্মীদের মদের আসর বসাতে দেখা গেল।

ক্যামেরা দেখেই অস্বস্তিতে পড়ে যান কর্মীরা। তাদের দাবী, শৌচাগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তাই খাচ্ছেন তারা। ওই সংস্থার কর্মী নারায়ণ আবার বললেন, “ঠিক তো নয়। রোজ খাই না। দশ মাসে কখনও-কখনও। বেশি খাইনি। এত টুকু খেয়েছি”। এই হাসপাতালের মধ্যেই পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকে। রোগীর পরিজনদের দাবী, পুলিশ সব জেনেশুনেও এই বিষয়ে কিছু বলে না।

হাসপাতালে আসা রুগীর আত্মীয় বলেন, “হাসপাতালের শৌচালয়ের মধ্যে মদের বসানো অন্যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ প্রশাসন দেখা উচিত”।

এই বিষয়ে ওই হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল সুপার ও ভাইস প্রিন্সিপাল সুকোমল বিষয়ী বলেন, “আমি বিষয়টি দেখেছি। থানায় এফআইআর করেছি। পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে”।

RELATED Articles